Showing posts with label গবাদিপশু পালন. Show all posts
Showing posts with label গবাদিপশু পালন. Show all posts

Wednesday, March 18, 2020

গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবস্থা



গরু মোটাতাজাকরণ ব্যাবস্থা।

বাংলাদেশে গরুর মাংস খুব জনপ্রিয় এবং চাহিদাও প্রচুর। তাছাড়া মুসলমাদের ধমীয় উৎসব কুরবানীর সময় অনেক গরু জবাই করা হয়। সূতরাং “ গরু মোটাতাজাকরন” পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ন এবং একটি লাভজনক ব্যবসা।

গরু মোটাতাজাকরন প্রক্রিয়ায় ধারাবহিকভাবে যে সকল বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হব তা নিম্নরুপ।

০১. পশু নির্বাচন, ০২. কৃমিমুক্তকরন ও টিকা প্রদান , ০৩. পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং ০৪. বাজারজাতকরন।

০১. পশু নির্বাচন : মোটাতাজাকরণ  কর্মসূচীর জন্য গরু ক্রয়ের সময় প্রধান দুটি বিবেচ্য বিষয় হলো বয়স ও শারীরিক গঠন।



ক. বয়স নির্ধারন: মোটতাজা করার জন্য সাধারনত ২ থেকে ৫ বছরের গরু ক্রয় করা যেতে পারে, তবে ৩ বছরের গরু হলে ভাল।

খ. শারীরিক গঠন : মোটাতাজাকরণে ব্যবহৃত গরুর দৈহিক গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়। এজন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে রেখে গরু নির্বাচন করা জরুরী।

•    দেহ হবে বর্গাকার ।
•    গায়ের চামড়া হবে ঢিলা ( দুই আঙ্গুল দিয়ে ধরে টান দিয়ে দেখতে হবে)।
•    শরীরের হাড়গুলো আনুপাতিকহারে মোটা, মাথাটা চওড়া, ঘাড় চওড়া এবং খাটো।
•    পাগুলো খাটো এবং সোজাসুজিভাবে শরীরের সাথে যুক্ত।
•    পিছনের অংশ ও পিঠ চওড়া এবং লোম খাটে ও মিলানো ।
•    গরু অপুষ্ট ও দূর্বল কিন্তু রোগা নয়।

০২. কৃমিমুক্তকরন  : পশু ডাক্তারের নির্দেশনা মত কৃমির ঔষধ ব্যবহার করতে হবে।
গরু সংগ্রহের পর পরই পালের সব গরুকে একসাথে কৃমিমুক্ত করা উচিত। তবে প্রতি
৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে এনডেক্স বা এন্টিওয়ার্ম টাবলেট
ব্যবহার  করা যেতে পারে।

০৩. টিকা প্রদান : পূর্ব থেকে টিকা না দেওয়া
থাকলে খামারে আনার পরপরই সবগুলো গরুকে তড়কা, বাদলা এবং ক্ষুরা রোগের টিকা
দিতে হবে। এ ব্যপারে নিকটস্থ পশু হাসপাতলে যোগাযোগ করতে হবে।



০৪. ঘর তৈরী ও আবসন ব্যবস্থাপনাঃ  আমদের দেশের অধিকাংশ খামারী ২/৩ টি পশু
মোটাতাজা করে থাকে, যার জন্য সাধারনত আধুনিক সেড করার প্রয়োজন পড়েনা। তবে
যে ধরনের ঘরেই গরু রাখা হোক ঘরের মধ্যে পর্যন্ত আলো ও বায়ু চলাচলের
ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরের মল- মূত্র ও অন্যান্য আবর্জনা যাতে সহজেই
পরিস্কার করা যায় সে দিকে খেয়াল রেখে ঘরে তৈরী করতে হবে।


০৫. পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ গরু মোটতাজাকরনে দুই ধরনের খাদ্যের সমন্বয়ে রশদ (রেশন) তৈরী করা হ হয়।

•   আঁশ জাতীয়ঃ শুধু খড়, ইউ এম, সবুজ ঘাস ইত্যাদি । তবে এই প্রক্রিয়ায় খামারীদেরকে শুধু খড়ে পরিবর্তে ইউ এম এস খাওয়াতে হবে।

•   দানারারঃ খৈল, ভূষি, চাষের কুড়া , খুদ, শুটকি মাছ, ঝিনুকের গুড়া, লবন ইত্যাদি।
খাওয়ানের পরিমানঃ গরুকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী, অর্থাৎ গরু যে পরিমান খেতে পারে সে পরিমান ইউ এম এস সরবারাহ করতে হব।

•   কোন খামারী সবুজ ঘাস খাওয়াতে চাইলে প্রতি ১০০ কেজি কাঁচা  ঘাসের সাথে ৩
কেজি চিটাগুড়ে মিশিয়ে তা গরুতে খাওয়াতে পারেন। এক্ষেত্রে কাঁচা ঘাসেও
গরুকে পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহ করতে হবে।

খ . দানাদর মিশ্রণঃ খামারীদের সবিধার জন্য নীচের সারনীতে একটি দানাদার মিশ্রণ তৈরীর বিভিন্ন
উপাদান পরিমান সহ উল্লেখ  করা হল। নিম্নের ছক অনুযায়ী অথবা প্রয়োজন
অনুযায়ী খামারীগণ বিভিন্ন পরিমান মিশ্রণ তৈরী করে নিতে পারবেন।

•  খাওয়ানের পরিমানঃ গরুকে তার দেহের ওজন অনুপাতে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে
হবে। পাশের দানাদার মিশ্রণটি গরুর ওজনের শতকরা ০.৮-১ ভাগ পরিমান সরবরাহ
করলেই চলবে।
•    খাওয়ানোর সময়ঃ দানাদার মিশ্রণটি এবারের না খাইয়ে ভাগে ভাগ করে সকালে এবং বিকালে খাওয়াতে হবে।
•    পানিঃ গরুকে পর্যান্ত পরিমানে পরিস্কার খামার পানি সরবরাহ করতে হবে।

০৬. দৈহিক ওজন নির্ণয়ঃ মোটাতাজাকরন প্রক্রিয়ায় গরুকে দৈহিক ওজন নির্ণয়
গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কেননা গরুর খাদ্য সরবরাহ,ঔষধ সরবরাহ ইত্যাদি কাজগুলো
করতে হয় দৈহিক ওজনের ভিত্তিতে।

গরুর ওজন নির্নয়ের জন্য গরুকে সমান্তরাল
জায়গায় দাড় করাতে হবে এবং ছবির নির্দেশিকা মোতাবেক ফিতা দ্বারা দৈর্ঘ্য ও
বুকের বেড়ের মাপ নিতে হবে। এই মাপ নীচের সূত্রে বসালে গরুর ওজন পাওয়া যাবে।

দৈর্ঘ্য × বুকের বেড় (ফুট) × বুকের বেড় (ফুট)
....................................... = ওজন (কিলোগ্রাম)  ৬.৬০

উপসাংহারঃ উপরে বর্নিত পদ্বতি অনুযায়ী পালন করলে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই গরু মোটাতাজাকরন করে বাজারজাত করা সম্ভব।

Sunday, March 15, 2020

খামার পরিকল্পনা



খামার পরিকল্পনা:



চাহিদার আলোকে আমাদের দেশে ছোট-বড় প্রায় ৪৭,৭১০টি ডেইরি খামার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে শংকর জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে দুগ্ধ খামার স্থাপন একটি লাভজনক ব্যবসা। ফলে গাভী পালনে উন্নত ব্যবস্থাপনা, সঠিক প্রজনন, সুষম খাদ্য, রোগদমন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে খামারিদের জানা প্রয়োজন।


খামার ব্যবস্থাপনায় নিম্ন বর্নিত বিষয় সমুহের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়ঃ-


খামারের স্থান নির্বাচনঃ আমরা পরিবার ভিত্তিক ক্ষুদ্র খামার স্থাপনের জন্য আমাদের বাড়ির অ-ব্যবহারিত স্থান বেছে নিতে পারি। এ স্থানটি সাধারনতঃ বাড়ীর পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে হলে ভাল হয়। সর্বমোট ১০ টি গরুর জন্য ৩০০ বর্গ ফুট জায়গার প্রয়োজন। গরুর ঘর থেকে ২০/২৫ ফুট দূরে একটি ছোট ডোবা থাকবে যাতে সেখানে গরুর মল-মূত্র ফেলা যায়। এ ছাড়া মল মুত্র থেকে জৈব সার ও বায়ো গ্যাস উৎপাদনের জন্য বায়ো গ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে লাভজনক ভাবে খামারের বর্জ ব্যবস্থাপনা করা যায়।


ভাল জাতের গাভীর বৈশিষ্ট্য:



মাথা : হালকা ও ছোট আকার, কপাল প্রশসত্দ, উজ্জ্বল চোখ, খাদ্যের প্রতি আগ্রহ। দৈহিক বৈশিষ্ট্য : দেহের সামনে দিক হালকা, পিছনের দিক ভারী ও সুসংগঠিত, দৈহিক আকার আকর্ষণীয়, শরীরের গঠন ঢিলা। পাজর : পাজরের হাড় স্পষ্ট, হাড়ের গঠন সামঞ্জস্যপুর্ণ। চামড়া : চামড়া পাতলা, চামড়ার নীচে অহেতুক চর্বি জমা থাকবে না, চামড়ার রঙ উজ্জ্বল, লোম মসৃণ ও চকচকে হবে। ওলান : ওলান বড় সুগঠিত ও দেহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বাটগুলো একই আকারের হবে। চারবাট সমান দূরত্বে ও সমানত্দরাল হবে। দুগ্ধশিরা : দুগ্ধশিরা মোটা ও স্পষ্ট, তলপেটে নাভীর পাশ দিয়ে দুগ্ধশিরা আঁকাবাঁকাভাবে বিস্তৃত থাকবে।


খামার ব্যবস্থাপনা: খামার ব্যবস্থাপনা এক প্রকার কৌশল যার মাধ্যমে খামারের সম্পদ, সুযোগ ও সময়ের সমন্বয় ঘটানো যায়। সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার সুফল হল- ১. সম্পদের মিতব্যয়িতা ২. স্বল্প সময়ে ফললাভ ৩. স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদন ৪. শক্তি ও শ্রমের অপচয় রোধ ৫. উৎপাদনে গুণগতমান ও উৎকর্ষতা লাভ।


বাসস্থান: পারিবারিক পর্যায়ে বা খামার পর্যায়ে গাভী পালন করতে হলে গাভীর জন্য ভাল বাসস্থান প্রয়োজন। গাভীকে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা যেমন- ঝড়, বৃষ্টি, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও গরম এবং অন্যান্য নৈসর্গিক দৈব দুর্বিপাক, পোকামাকড়, চোর, বন্য-জীবজন্তু হতে রক্ষা করার জন্য যথোপযুক্ত বাসস্থান বা গোয়ালঘর প্রয়োজন। আমাদের আবহাওয়ার আলোকে ঘরে প্রচুর আলো বাতাস চলাচলের জন্য ঘরটি উত্তর-দক্ষিণমুখী হওয়া বাঞ্চনীয়। কোন অবস্থাতেই যেন ঘরে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা যেন না থাকে। এতে ঘরের মেঝেটি ইট বিছানো থাকলে ভাল হয়। ঘরের দুর্গন্ধ ও মশামাছি দমনের জন্য মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক দ্বারা ধোয়া প্রয়োজন। গবাদিপশুর বাসস্থান দুই ধরণের হতে পারে : ১. উন্মুক্ত বা উদাম ঘর ২. বাঁধা ও প্রচলিত ঘর। বাঁধা ঘরের বৈশিষ্ট্য: এই পদ্ধতিতে গরুর গলায় দড়ি বা লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে পালন করা যায়। গাভীর খাদ্য, পানি গ্রহণ এবং দুধ দোহন একই স্থানে করা যায়।


সুবিধা : বাঁধা থাকে বিধায় গাভীর দুধ দোহন সহজ হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ায় পশু নিরাপদ থাকে, কৃত্রিম প্রজননের জন্য বেশ সুবিধাজনক, নির্ধারিত অল্প জায়গায় পশু পালন করা যায়।


অসুবিধা: এই পদ্ধতিতে ঘর তৈরি খরচ বেশি, পশুর সহজে ঘোরাফেরার ব্যবস্থা থাকে না, এতে পশুর ব্যয়াম না হওয়াতে বিভিন্ন ধরনের রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে, একই জায়গায় দিনরাত্রি বাঁধা থাকে বলে মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে থাকে। বাঁধা ঘরের নকশা: এই পদ্ধতির গো-শালায় পশু সব সময় বাঁধা অবস্থায় থাকে। এজন্য গো-শালা যাতে সহজে পরিস্কার করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ঘর তৈরি করা প্রয়োজন।প্রচলিত গো-শালা দুই ধরনের হয়-


একসারি বিশিষ্ট গো-শালা: অল্প সংখ্যক গবাদি পশুর জন্য একটি লম্বা সারিতে বেঁধে পালনের জন্য এই গো-শালা তৈরি করা হয়। প্রতিটি পশুকে পৃথক রাখার জন্য জিআইপাইপ দিয়ে পার্টিশন দেয়া হয়, পার্টিশনের পাইপ লম্বায় ৯০ সে.মি. এবং উচ্চতায় ৪৫ সে.মি. হওয়া প্রয়োজন, একটি গরুর দাঁড়াবার স্থান ১৬৫ সে.মি., পাশের জায়গা ১০৫ সে.মি., খাবার পাত্র ৭৫ সে.মি. এবং নালা ৩০ সে.মি. হওয়া প্রয়োজন, একই মাপে পশুর সংখ্যা অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ করে গো-শালা তৈরি করা হয়, গো-শালা হবে একচালা বিশিষ্ট ঘর, ঘরের ছাদ প্রায় ৩০০ সে.মি. উঁচুতে করতে হয়।


দুই সারি বিশিষ্ট গো-শালা: অল্প জায়গায় অধিক পশুপালনের জন্য এ ধরণের গো-শালা তৈরি করা হয়, এ ধরনের গো-শালায় পশুকে দুভাবে রাখা যায়, মুখোমুখি পদ্ধতি ও বাহির মুখ পদ্ধতি। মুখোমুখি পদ্ধতিতে দুই সারি পশু সামনাসামনি থাকে। দুইসারি খাবারের পাত্রের মাঝখানে ১২০ সে.মি. চওড়া রাসত্দা থাকে- যা পাত্রে খাবার দেবার জন্য ব্যবহার করা হয়, একটি গরুর জন্য দাঁড়ানোর জায়গা ৫.৫ ফুট, পাশের জায়গা ৩.৫ ফুট। সুবিধা: একই সাথে দুইসারি পশুকে সহজে খাবার ও পানি সরবরাহ করা যায়, দুধ দোহনের জন্য অধিকতর আলো পাওয়া যায়, পশু নিজ জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, পরিচর্যাকারী সহজে চলাফেরা করতে পারে। গাভীর খাদ্য : কাঁচা ঘাস গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য। এ ছাড়া, সাধারনতঃ কৃষিজাত পণ্যের উপপণ্য যেমন, চালের কুড়া, গমের ভুষি, খেসারি ভুষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, মুশুর, মুগ, ছোলা, ও মটরের ভুষি, তিলের খৈল, তিষির খৈল, ধানের খড়, ভুট্টার খড় ইত্যাদি গো খাদ্য হিসাবে ব্যাবহার করা হয়। উপরে বর্নিত গবাদি পশুর খাদ্যগুলিকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি, যথা –


(১) দানাদার খাদ্য যেমনঃ- চালের কুড়া, গমের ভুষি, খেসারি ভুষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, মুশুর, মুগ, ছোলা ও মটরের ভুষি, তিলের খৈল, তিষির খৈল ইত্যাদি দানাদার খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত। এ সকল খাদ্য উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে সুষম দানাদার খাদ্য তৈরী করা হয়। সুষম দানাদার খাদ্য খামারীগণ নিজে খামারে তৈরি করতে পারেন। তা ছাড়া খাদ্য কারখানায় উৎপাদিত সুষম দানাদার খাদ্য বাজারে বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়। এ গুলি প্রয়োজনীয় মাত্রায় গবাদি পশুকে খাওয়ানো হয়।


২) আঁশ জাতীয় খাদ্য যেমনঃ- কাঁচা ঘাস, ধানের খড়, ভুট্টার খড় ইত্যাদি গবাদি পশুর আঁশ জাতীয় খাদ্য হিসাবে ব্যাবহার করা হয়। আঁশ জাতীয় খাদ্য দুই ভাগে বিভক্ত যেমনঃ (ক) কাঁচা ঘাস (খ) শুকনো খড় ইত্যাদি।আমাদের দেশে গো- চারন ভূমি নেই বললেই চলে। তাই কাঁচা ঘাসের ভীষন অভাব। সাধারনতঃ ফসলের জমিতে যে সব আগাছা জন্মায় ঐগুলিই ঘাস হিসাবে গবাদি পশুকে খাওয়ানো হয়। কিন্তু, এ ঘাস খামারে গাভী পালনের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই, খামারের গাভির জন্য ফসলের জমিতে ঘাস চাষ করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে বর্তমানে উন্নত জাতের ঘাসের বীজ পাওয়া যায়। যেমন- নেপিয়ার, পারা, হাইব্রীড সরগম (জাম্বো), জার্মান গ্রাস, আলফা আলাফা, লুসার্ন ইত্যাদি। নেপিয়ার, জাম্বু ইত্যাদি ঘাস ১ বিঘা জমিতে বছরে প্রায় ১৮ মেঃ টন পর্যন্ত উৎপাদিত হয় । ১ বিঘা জমির উৎপাদিত ঘাস দিয়ে ৩টি গাভীকে সারা বছর কাঁচা ঘাস খাওয়ানো যায়। ধানের খড় আমাদের দেশে সারা বছর জুড়েই পাওয়া যায়। গবাদি পশুর খাদ্যের চাহিদা মিটাতে ধানের খড় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ভুট্টার চাষ আমাদের দেশে ব্যপকভাবে হয়ে থাকে। শুকনো ভুট্টার গাছ ও পাতা গবাদি পশুর জন্য একটি উপাদেয় আশ জাতীয় খাদ্য ।


দুগ্ধবতী গাভীর সুষম দানাদার খাদ্য তৈরির তালিকাঃ ১ . গমের ভুষি- ৩৫ ৩৫%২. চালের কুড়া -৩০ ৩০%৩. খেসারি /ডাল /ছোলা / মটর ভুষি -১২ ১২%৪. তিলের খৈল/ সয়াবিন মিল -২০ ২০%৫. চিটা গুড়- ২ ২%৬. লবন- ০.৭৫০ %৭. ডি সি পি -২ ২%৮. ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স -০.২৫০ % মোটঃ ১০০ উপরে উল্লেখিত তালিকা অনুযায়ী তৈরী খাদ্য গাভীর স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ১.৫ কেজি এবং প্রতি কেজি দুধের জন্য ০.৫ হারে খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া দুগ্ধবতী গাভীকে প্রতিদিন ১-২ কেজি চাউলের খুদ আথবা ভুট্টা ভাঙ্গা সিদ্ধ করে খাওয়াতে হবে। কাঁচা ঘাস ও খড় খাওয়ানো: একটি শংকর জাতের দুগ্ধবতী গাভী যার দৈনিক দুধ উৎপাদন ১০ লিটার তাকে ৩০ কেজি কাঁচা ঘাস ও ৪ কেজি শুকনো খড় খাওয়াতে হবে। দুধ উৎপাদন বেশী হলে আনুপাতিক হারে ঘাস ও খড়ের পরিমান বাড়াতে হবে। শুষ্ক, বকনা, গর্ভবতী গাভী ও ষাঁড়কে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ কেজি ঘাস ও ২ থেকে ৪ কেজি খড় খাওয়াতে হবে।


বাছুর লালন পালন: দুগ্ধ খামারের বড় সম্পদ তার বাছুর। তাই খামারে বাছুরের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। বাছুর জন্মাবার পর থেকেই এর যথাযত যত্ন নিতে হবে। জন্মের সাথে সাথে এর নাক মুখ পরিষ্কার করে শুষ্ক স্থানে রাখতে হবে এবং গাভীকে দিয়ে গা চাটাতে হবে। নিয়মিত শাল দুধ পরিমান মত দিনে ৫/৬ বার খাওয়াতে হবে। শাল দুধ শেষ হলে নিম্ন বর্নিত ভাবে প্রতিদিন পরিমান মত দুধ খাওয়াতে হবে । ১ম মাসঃ দৈনিক ২ থেকে ৩ লিটার ২য় মাসঃ দৈনিক ৩ থেকে ৪ লিটার ৩য় মাসঃ দৈনিক ৩ থেকে ৪ লিটার ৪র্থ মাসঃ দৈনিক ৪ লিটার উল্লেখিতভাবে বাছুরকে দুধ খাওয়ালে বাছুরে দৈহিক বৃদ্ধি তরান্বিত হবে এবং ১৫-১৬ মাস বয়সে বকনা বাছুর গর্ভ ধারনের ক্ষমতা অর্জন করবে।


পরিচর্যা: গাভীর সঠিক পরিচর্যা না করলে উন্নত জাতের গাভী পালন করেও গাভীকে সুস্থ সবল উৎপাদনক্ষম রাখা সম্ভব হবে না।


গোবর/ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা:- গোবর গবাদি পশু থেকে পাওয়া একটি অর্থকরী সম্পদ। গোবর থেকে আমরা বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করতে পারি যা থেকে জ্বালানী ও ফসলি জমির উৎকৃষ্ট সারের চাহিদা পুরন করা সম্ভব। এ ছাড়া, মাছের জলজ খাদ্য উৎপাদনে পুকুরে গোবর ব্যবহার করা হয়।


পশু রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা:- গবাদি পশুর রোগ বালাই দমন ও চিকিৎসা খামার ব্যবস্থাপনার অপরিহার্য অংগ। আমাদের দেশে প্রতি বছর বিভিন্ন সংক্রামক ও ছোয়াঁচে রোগে গবাদি পশু মারা যায়। ফলে, খামারিগণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। গবাদি পশুর রোগ বালাই দমনের জন্য সকল গবাদি পশুকে প্রতি ৪ মাস পর পর নিয়মিত কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে। উকুন ও আঠালি দমন করতা হবে। সংক্রামক ও ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধের জন্য সকল বয়সের গবাদি পশুকে টীকা প্রদান করতে হবে।


জনবল : খামার সফল ভাবে পরিচালনার জন্য খামারে কাজ করতে আগ্রহী দক্ষ, উদ্দ্যোগি, কর্মঠ, উদ্দ্যোমি , সৎ ও ত্যাগী জনবলের বিকল্প নেই। খামারের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সময়জ্ঞান, নিয়মানুবর্তিতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হতে হবে। তাই খামারের কর্মকর্তা ও কর্মচারি নিয়োগের সময় উল্লেখিত সৎ গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে হবে। খামারের সুস্থ্য পরিবেশ বজায় রাখা:-খামারের অভ্যন্তরে ও চারিপাশে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরী। স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিদিন নিয়মিত গাভীর শেড পরিষ্কার করতে হবে। শেডের গোবর যথাস্থানে সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে ফেলতে হবে। ড্রেনের মাধ্যমে শেডের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার করতে হবে। মশা, মাছি ও অন্যান্য কীট পতঙ্গের হাত থেকে গবাদি পশু রক্ষা করতে মশা মাছি ধ্বংশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মশা থেকে রক্ষার জন্য মশারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। খামারের চারিপাশের আগাছা, জংলা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে । জীব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা-খামারকে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য খামারের জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। খামারে মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রন এবং অন্যান্য প্রাণী যেমন গরু, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল ও ইঁদুর ইত্যাদির প্রবেশ সম্পুর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। কারণ উল্লেখিত জীবজন্তু রোগজীবাণুর বাহক হিসাবে কাজ করে এবং ছোয়াচে রোগ বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।


খামারের রেকর্ড সংরক্ষণ:- খামারের লাভক্ষতি নিরূপণ আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাবের উপর নির্ভরশীল। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিয়য়ে মূল্যায়ন করা দরকার। খামারের উৎপাদিত পণ্যের হিসাব, ক্রয়, বিক্রয়, জন্ম, মৃতু্য এবং কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের জন্য সঠিক তথ্য রক্ষাকল্পে রেকর্ড সংরক্ষণ করা অত্যাবশ্যকীয়। উপসংহার:-আমাদের দেশে মাণ সম্মত বিশুদ্ধ গরুর দুধের চাহিদা যে অনেক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা অনেক মূল্যের বিনিময়ে খাটি দুধ পেতে সদা সচেষ্ট থাকি। তাই, ভাল জাতের কয়েকটি (৪-৫ টি) গাভী লালন পালন করে সারা বৎসর দুধ উৎপাদন করতঃ নিজের চাহিদা পুরন ও অতিরিক্ত দুধ বিক্রি করে আমরা আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারি।








Saturday, March 14, 2020

Quarantine -কোয়ারেন্টাইন বা সংঘ নিরোধ


Quarantine বা সংঘ নিরোধ




Quarantine কি?

Quarantine একটি ইংরেজী শব্দ। যার বাংলা অর্থ সংঘ রোধ।
সহজ ভাষায় কোয়ারেনটাইনের সংজ্ঞা যদি বলি তাহলে এভাবে বলতে পারি- Quarantine হচ্ছে একটা পদ্ধতির নাম। যে পদ্ধতিতে একটা ফার্মে নতুন হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল বা পাখি আনা হলে সেই পশু-পাখি যেন খামারে পূর্বে থাকা প্রাণী গুলোর মাঝে কোন রোগ, পরজীবী ইত্যাদি না ছড়াতে পারে তার বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনাই Quarantine.
এটি একটি স্বাস্থ্যগত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যার দ্বারা যেকোন বহিরাগত প্রাণীকে ‍নিজের সংগ্রহে নেয়ার আগে সেই প্রাণীদেরকে সম্পূর্ণ রোগমুক্ত করা হয়।
জেনে রাখা ভালো Quarantine শুধুমাত্র পশু পাখির জন্যই প্রযোজ্য না। বরঞ্চ প্রাণী জগতের সমস্ত প্রাণী  এমনকি গাছপালার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
চলুন আজকে আমরা হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল নিজের সংগ্রহে নেয়ার আগে কিভাবে কোয়ারেনটাইন করতে হয় সেটা শিখি।
Quarantine কেন করতে হয়?
আপনি শখ করে অল্প কিছু হাঁস-মুরগি কিংবা কয়েকটা ছাগল-ভেড়া পালন করছেন। আপনি নিয়মিত তাদের ভ্যাকসিনেশন করছেন এবং কৃমি বা পরজীবী মুক্ত রাখছেন।
এমতাবস্থায় কোন প্রয়োজনে আপনি কোন হাট হতে অথবা কোন খামার হতে ১-২টা নতুন প্রাণী বা পাখি নিয়ে আসলেন। আর এনেই ধুম করে আপনার প্রাণী বা পাখিগুলোর সাথে ছেড়ে দিলেন।
কিছুদিনের মধ্যেই আপনার সাজানো বাগান পূর্বের ন্যায় সুসজ্জিত নাও থাকতে পারে। কোন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াল ডিজিজ আপনার খামারে হানা দিতেপারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের আন্তঃ এবং বহিঃপরজীবী আপনার পুরো ফার্মে ছড়িয়ে যেতে পারে।
ফলস্বরূপ- যেটা হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কিছু বুঝে উঠার আগেই মহামারিতে সব শেষ। অথবা পরজীবী বা অন্যকোন রোগ আপনার ফার্মে ছড়িয়ে উৎপাদন ব্যহত করবে এবং আপনি অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। এসব অনাকাংখিত দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যেই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে Quarantine করতে হয়।

কিভাবে Quarantine করতে হয়?
১। প্রথমে (নিরাপদ দূরত্ব ১০০মিটার) দূরে একটি ঘর বানাতে হবে। বাহির হতে আনা প্রাণী সেই ঘরে রাখতে হবে।
২। কোন প্রাণী অসুস্থ থাকলে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে হবে।
৩। এরপর পাঁচ দিন ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং লেবুর সরবত দেয়া যেতে পারে যাতে দ্রুত ধকল কাটিয়ে উঠে।
৪। এরপর কৃমি মুক্ত করতে হবে।
৫। কৃমিমুক্ত করার পরদিন হতে তিন দিন লিভারটনিক দেয়া যেতে পারে।
৬। এরপর অক্সিটেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের ঔষধ দেয়া যেতে পারে পাঁচ দিন। যাতে কোন ধরনের ছোটখাটো ব্যাকটেরিয়াল ডিজিজ থাকলে তা রিকভার করে।
৭। এরপর ভালমানের কোন মাল্টিভিটামিন দেয়া যেতে পারে ৫-৭দিন।
৮। এরপর হাঁস হলে ডাকপ্লেগ, টার্কি বা মুরগি হলে রানিক্ষেত, ছাগল-ভেড়া হলে পিপিআর এবং গবাদি পশু হলে ক্ষুরা রোগের ভ্যাক্সিন করতে হবে।
৯। এরপর রোদ্রজ্জল দিন হলে উকুননাশক সাবান দিয়ে গোসল করিয়ে দিবেন যাতে বহিঃপরজীবী মুক্ত হয়।
১০। আরো কয়েকদিন অবজার্ভ করে কোন ধরনের অস্বাভাবিকতা বা অসুস্থতা না থাকলে মুল শেডে প্রবেশ করাতে হবে।
১১। পুরো প্রসেসটি পার হতে অন্তত ২১দিন সময় লাগবে। এই সময়টা অবশ্যই দিতে হবে।
হুট করেই ভ্যাকসিন দেয়া যাবেনাঃ
কোন পশু পাখি অন্য কোন স্থান হতে এনেই ভ্যাকসিন দিয়ে দেয়া যাবেনা। আমরা যে ভ্যাকসিন দেই তা কিন্তু এক ধরনের ভাইরাস। সহজভাবে বলতে গেলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এন্টি ভাইরাস। যে কারনে পশু পাখি কোন ধরনের রোগে আক্রান্ত থাকলে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে হিতে বিপরীত হবে।

দেশি মুরগির- জীব নিরাপত্তা (Bio Security)

\

দেশি মুরগির- জীব নিরাপত্তা (Bio Security)

জীব নিরাপত্তা (Bio Security) শব্দটি বর্তমান খামার সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে বহুল আলোচিত। জীব নিরাপত্তা শব্দের অভিধানিক অর্থ হলো জীবের নিরাপত্তা বিধান  করা। অর্থাৎ খামার স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে খামার পরিচালনা, উৎপাদন, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ, এমনকি ভোক্তার কাছে  উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দেযা পর্যন্ত প্রক্রিয়াগুলোর আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত ব্যবস্থাপনা । সার্বিক অর্থে রোগ জীবানু ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব থেকে খামার রক্ষাই জীব  নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জীব নিরাপত্তা সহজ অর্থ হচ্ছে এমন কিছু ব্যবস্থাপনা যাতে জীবানু বাহির থেকে খামারে প্রবেশ করতে না পারে এবং একই ভাবে খামার থেকে জীবানু বাহিরে যেতে না পারে।

জীব নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাঃ

 

রোগ প্রতিরোধের সব চাইতে সহজ ও কার্যকরী উপায় হচ্ছে জীব নিরাপত্তা।  জীব নিরাপত্তা বসতবাড়ীতে, পোল্ট্রি খামারে, গবাদিপ্রাণি, ছাগল ও ভোড়ার খামারে রোগ জীবানু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
জীব  নিরাপত্তা রোগের ঝুঁকি কমায়, চিকিৎসা, ঔষধ, ধকল, ডাক্তার খরচ কমিয়ে সার্বিকভাবে উৎপাদন  বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

রোগের চক্রঃ

যদি এই চক্র ভাঙ্গা যায় তবেই যে কোন রোগ জীবানুকে প্রতিরোধ সম্ভব। জীব নিরাপত্তা হলো একটি সাধারণ জ্ঞান এটি মূলত কিছু আদর্শগত আচরণবিধি, যা কোন খামারে অবশ্যই পালন করা যায়। প্রাণিসম্পদকে ক্ষতিকর জীবানুর সংস্পর্শে আসা থেকে দুরে রাখার একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই হলো জীব নিরাপত্তা।

জীব নিরাপত্তার উদ্দেশ্যগুলো নিম্নরূপঃ


  1. বহিরাগত রোগ জীবানু যেমন রানীক্ষেত, গামবোরো, ক্ষুরারোগ , ম্যাসষ্টাইটস ইত্যাদির কবল থেকে  খামারকে রক্ষা করা।
  2. মানুষ বা অন্যান্য জীবজন্তুর মাধ্যমে ছড়ায় এমন রোগ ও জীবানু থেকে খামারকে রক্ষা করা।

·        রোগের বিস্তার সীমিতকরণের মাধ্যমে সার্বিক ক্ষতি  হ্রাস করে লাভজনক উপায়ে খামার গড়ে তোলা।
·        খামারের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা।
·        স্বাস্থ্য সম্মত নিরাপদ ভোগ্যপণ্য উৎপাদন করাঃ
·        জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করে জীবানু ও এন্টিবায়োটিকমুক্ত উৎপাদিত পণ্য রপ্তানী করে বিশ্ব বাজারে ইতিবাচক  প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
·         

জীব নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কারণঃ

মানুষের অসচেতনতা
·        প্রতিবেশী খামার /  খামারকর্মী/ দর্শনার্থী।
·        খামারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি।
·        যানবাহন, খাদ্য/ পানি
·        পোশা  ও বণ্য প্রাণী এবং পাখি
·        রোগাক্রান্ত  প্রাণী, মুরগীর বিষ্ঠা, ডিম, লিটার।
·        মৃত  প্রাণীর দেহ সঠিকবাবে মাটির নীচে পুঁতে না ফেলা।

খামারে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করণীয়ঃ

Ø        অসুস্থ্য গবাদিপ্রাণি, হাঁস-মুরগী ছিল বা আছে এমন জায়গা থেকে আসা যে কেউ, তার পরনের কাপড়, জুতা বা স্যান্ডেলের মাধ্যমে রোগ জীবানু বয়ে আনতে পারে।

Ø        প্রতিবেশী বাড়ী বা স্থানীয় বাজার অথবা যে কোন আক্রান্ত এলাকা থেকে আসা শিশুসহ পরিবারের যে কোন সদস্য।

Ø        গবাদিপ্রাণী, হাঁস-মুরগী ও পণ্য বিক্রয়ের মধ্যস্থতাকারী বা ছোট ব্যবসায়ী যারা খামারে হাঁস-মুরগী অন্যান্য জীবজন্তু বা অন্যান্য কৃষি জাত পণ্য বেঁচতে বা কিনতে  আসে।
Ø        খামারে টিকা বা পরামর্শ সেবা দিতে আসা মাঠকর্মী, এনজিও কর্মী বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব মহিলা এমন হতে পারে যে তারা এখানে আসার আগে একটি সংক্রমিত খামারে গিয়েছিলেন।

Ø        কুকুর, বিড়াল, শেয়াল বা অন্যান্য প্রাণী যারা অন্য জায়গা থেকে মৃত জন্তু টেনে আনতে পারে।

Ø        সার হিসেবে কেনা বা অন্য কাজে ব্যবহারের জন্য অন্য খামার থেকে  আনা লিটার বা মুরগির বিষ্ঠা।

খামার পরিদর্শক ও অন্যান্য লোকদের জন্য করণীয়ঃ

খামার  পরিদর্শক (প্রাণিসম্পদ  কর্মী  অথবা ভেটেরিনারী ডাক্তার) কে  পোষাক বদলিয়ে উত্তমরূপে জীবানুনাশক স্প্রে করে খামারে প্রবেশ করতে দিতে হবে।  পরিদর্শকের জন্য আলাদা  রেজিষ্ট্রার খাতা ব্যবহার করতে হবে, যেখানে তাঁর বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করা তাকবে।

খামার কর্মীদের জন্য করণীয়ঃ


প্রত্যেক কর্মচারীকে জীব নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে হবে এবং তাদেরকে এ বিষয়ে অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। খামারে প্রবেশের পূর্বে কর্মচারীদের গোসল করে নিতে হবে। প্রত্যেক কর্মচারীর জন্য আলাদা রং এর পোষাক রাখতে হবে যাবে প্রত্যেকের নাম লেখা থাকবে।

খামারে যানবাহন্ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও যন্ত্রপাতির বিষয়ে করনীয়ঃ

খামারের বাইরের কোন পরিবহনকে (খাদ্য, বাচ্চা, ডিম, দুধ) খামারের বেড়ার ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না।
যানবহনের চালক, কর্মীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া উচিত নয়।
খামারের যন্ত্রপাতি, দুধের পাত্র, ডিমের ট্রে, প্রভৃতি ভালবাবে ঘষে পরিষ্কার করে সাবান পানি দিয়ে ধূয়ে তারপর জীবানুনাশকে চুবিয়ে রোদে শুকিয়ে কামারে প্রবেশ করাতে হবে।

জীব নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য ড্রেস বা পোষাকঃ

আদর্শ পোষাক


  1. মাস্ক             ২.  পস্নাষ্টিকের হাত মোজা বা গেস্নাবস         ৩.   এপ্রোন   ৪.  পায়জামা   ৫. কান ঢাকা টুপি   ৬. গামবুট
মধ্যম মানের জীব নিরাপত্তা পোষাকঃ
১.গামছা তিন ভাজ করে নাকে  বাধা    ২.  লম্বা হাতা পাঞ্জাবী   ৩.  টুপি    ৪.পস্নাষ্টিকের জুতা

নূন্যতম মানের জীব নিরাপত্তা পোষাকঃ

অন্তঃত পক্ষে খামারে যে পোষাক ও জুতা ব্যবহার করা হয়, তা খামারের ভিতরের ভিতরেই পরিধান করতে হবে। এ পোষাক  খামারের বাইরে ব্যবহার করা যাবে না। খালি পায়ে এবং খালি গায়ে খামারে প্রবেশ করা যাবে না।


খামারে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য করণীয়ঃ

খামারের চারদিকে কাঁটা তার, বাঁশ অথবা নেট দিয়ে বেড়া দিতে হবে যাতে করে শিয়াল, কুকুর, বিড়াল অথবা অন্য কোন  বণ্য প্রাণি খামারে প্রবেশ করতেনা পারে। খামারের প্রবেশ নিষেধ সাইনবোর্ড টানাতে হবে।

কোনক্রমেই অন্য খামারের জিনিসপত্র ব্যবহার করা যাবে না। খামারের জিনিসপত্র, যন্ত্রপাতি, ডিমের ট্রে, দুধের পাতে পরিচিতি চিহ্ন রাখা উচিৎ যাতে অন্য খামারের সাথে বদল না হয়।

জীবানুনাশক ব্যবহার করার অন্ততঃ ১৫-২০ মিনিট পর যন্ত্রপাতি জিনিসপত্র ভিতরে প্রবেশ করাতে দিতে হবে।

খামারের বাইরে চলাচলের নিয়মঃ


বিনা প্রয়োজনে খামারীর গবাদিপ্রাণি বা মুরগীর  বাজার বা প্রতিবেশী খামারে যাওয়া উচিত নয়। কারণ বাজারের হাঁস-মুরগী, গবাদিপ্রাণি বিভিন্ন স্থান ও কামার থেকে আসে। ফলে অজানা উৎস থেকে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ প্রয়োজনে বাজারে গেলে বাড়ীতে ফেরার পর জুতা, কাপড়, সাবান পানি দ্বারা ধুয়ে দিন এবং নিজে গোসল করুন।

খামারকর্মী কিভাবে কাজ করবেনঃ

খামার ঘরের বাইরে অবশ্যই সাবান পানি এবং ফুটবাথের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
ফুটবাথের জীবানুনাশক অবশ্যই প্রস্ত্ততকারক কোম্ পানীর নির্দেশমত গুলাতে হবে এবং সঠিক সময় পর পরিবর্তন করতে হবে। পোশাক বদল, জুতা বদল, ফুটবাথের ব্যবহার প্রভৃতি সঠিকভাবে করতে হবে।
যদি একই খামারে একের অধিক শেড তাকে, তবে প্রত্যেক শেডের জন্য আলাদা, পোষাক, জুতা, যন্ত্রপাতি রাখতে হবে এবং এদের রং ভিন্ন হওয়া ভাল।

পোল্ট্রি ও গবাদিপ্রানির ঘর য াবাবে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার এবং ময়লা আবর্জনামুক্ত করে তারপর জীবানুনাশক স্প্রে করতে হবে।
খামারের আশপাম প্রতিদিন ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
উচিছষ্ট খাবার , লিটার , বিষ্ঠা ও অন্যান্য আবর্জনা প্রতিদিন সরিয়ে ফেলতে হবে। সেগুরো কম্পোষ্ট করার জন্য সংরক্ষিত জায়গায় রাখতে হবে।

খামারের উৎপাদিত পণ্য ডিম, দুধ এবং মুরগি বিক্রিয় ক্ষেত্রে করণীয়ঃ

দুধ, ডিম বা মুরগীর বিক্রির পর খামারে পুনরায় প্রবেশ করার পূর্বে অবশ্যই কাপড় ধুয়ে গোসল করে খামারের নির্দিষ্ট ড্রেস পড়ে জীবানুনাশক যথাযথবাবে ব্যবহার করে খামারে ঢুকতে  হবে।

যে ভ্যান বা বাহন দিয়ে মুরগি, ডিম বা দুধ নিয়ে যাবেন বাল করে সাবান পানি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে পরে জীবানুনাশক স্প্রে করতে হবে। কখনোই অবিক্রিত গবাদিপ্রাণি বা  মুরগির বাজার হতে খামারে সরাসরি ফিরিয়ে আনা যাবে না।

খামার নিয়মিত পরিষ্কার করণ
খামারের যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরিষ্কার করণঃ


জীবানুনাশক (Disinfectant)ঃ

জীবানুনামক কি? যে সমস্ত কেমিক্যাল রোগ জীবানুকে দ্বংস করে অথবা মেরে ফেলে তাদেরকে জীবানুনাশত (Disinfectant) বলে।

জীবানুনামকের প্রকারভেত।ঃ জীবানুনাশক প্রধানত ৬ প্রকার । যেমনঃ
1.                   অক্সিডাইজিং এজেন্ট,                            ৪ . ফেনলিক এজেন্ট          
2.                  এলডিহাই কম্পাউন্ড                             ৫. কোয়াটারনারি এমোনিয়া এলকাইড
3.                  এলকোহলিক এজেন্ট                            ৬.অন্যান্য ক্সার জাতীয়


বাজারে প্রচলিত জীবানুনাশকের পরিচিতিঃ

1.                   ক্লোরিন জাতীয় জীবানুনাশক যেমন-ব্লিচিং পাইডার
2.                  অক্সিডাইজিং এজেন্ট  যেমন-পটাসিয়াম পার ম্যাঙ্গানাইট, সাবঅক্সিমনোসালফেট, ডাইক্লোরা আইমোসায়নিউরেট
3.                  সোডিয়াম হাইপ্রোক্লোরাইড জাতীয় জীবানুনাশক-যেমন-ক্লোরটেন।
4.                   আইয়োডিন জাতীয় জীবানুনাশক যেমন পভিসেফ।
5.                  গ্লুটারাল ডিহাই জাতীয় জীবানুনাশক যেমন টিএইচ-৪।
6.                  ডাইসোফার জাতীয় জীবানুনাশক যেমন ফার্ম-৩০।
7.                  ফেনলিন যেমন ডিটল।
8.                  এলকোহল-আইসোপ্রোপাইনল।

জীবানুনাশক ব্যবহারের কতিপয় নির্দেশনাঃ

জীবানুনাশক ব্রবহারের পূর্বে নিম্নলিখিত বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবেঃ
1.                   ট্রেড নামঃ কোম্পানী যে নামে বাজারজাত করে
2.                  জেনেরিক নাম প্রকৃত নাম (অ্যাকটিভ ইনগ্রোডিয়্যান্ট)
3.                  প্রস্ত্ততের তারিখ
4.                   মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ
5.                  ব্যাচ নং
6.                  জীবানুনাশক অবশ্যই প্যাকেট জাত/ কোতল বন্ধী হতে হবে
7.                  জীবানুনাশক অবশ্যই প্রস্ত্ততকারক কোম্পানীর মাত্রা অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে
8.                  একই জীবানুনাশক বার বার ব্যবহার করা যাবে না এতে করে জীবানু সহনীয় হয়ে যেতে পারে এবং
9.                  জীবানুনা্রশক শিশু ও গবাদিপ্রানির নাগালের বাইরে রাখতে হবে।



জীবানুনাশকের ব্যবহার বিধিঃ
1.                     খাবার পানি শোধনে  ব্যবহারযোগ্যঃ ক্লোরো হাইপোক্লারাইড জাতীয়  জীবানুনাশক
2.                     আইয়োডোফোর/ আয়োডিন জাতীয় জীবানুনাশক গবাদিপ্রাণি বা পোল্ট্রির কোন ক্ষতি করেনা সকল  জায়গায় বাল কাজ করে তবে রোদে এর কার্যকারীতা নষ্ট হয়ে যায়।
3.                    গ্লুরালডিহাইইড, ফেনল, ডাইপটাvাসয়াম পারঅক্সিডাইসালফেট জাতীয় জীবানুনাশক মুরগীর শরীরে ব্যবহার করা যায় না। তবে দেয়াল, ছাদ, ফ্লোর, পানি, খাদ্য ও যন্ত্রপাতি জীবানুমুক্ত  করতে খুবই কার্যকরী।
4.                     জীবানুনাশক পানিতে গুলানোর পর এর কার্যকারিতা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। জীবানুনাশক  ব্যবহার করার পর এর কাজ করার জন্য সাধারণত ৩০ মিনিট সময় লাগে অর্থাৎ একটি খাবার পাত্র জীবানুনাশক দিয়ে স্প্রে করার পর অন্তত ৩০ মিনিট পরে কামার ঘরে ঢুকাতে হবে যাতে করে জীবানু দ্বংস করতে সময় পায়।
5.                     ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংসকারী জীবানুনাশক অপেক্ষাকৃত উষ্ণ তাপমাত্রাতেই বেশী কার্যকরী। সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড দ্রবণ-১ ভাগ সোডিয়াম হাইপোকেত্লারাইড ১০ ভাগ পানির সাথে মিশিয়ে ৮০ লিটার জীবানুনাশক তৈরী করা যায়। গবাদিপ্রাণির ঘর, মেঝে,  চালা, পোল্ট্রির শেড জীবানুমুক্তকরণে এ দ্রবণ খুবই কার্যকরী। বাজারে ক্লোরক্স/ ক্লোরটেক নামে ইহা পাওয়া যায়।

ফিউমিগেশন পদ্ধতিঃ

ব্রয়রারের জন্য প্রতি ১০০ বর্গফুট স্থানের জন্য ২০ গ্রাম  পটাসিয়াম পারম্যাংগানেট + ৪০ মিঃ লিঃ ফরমালডিহাইড অর্থাৎ ১ঃ২ অনুপাতে ব্যবহার করতে হবে। লেয়ারের জন্য প্র তি ১০০ বর্গফুট স্তানের জন্য ৩০ গ্রাম পটাসিয়াম পারম্যাংগানেট + ৬০ মিঃ লিঃ ফরমাঅর্থাৎ ১ঃ২ অনুপাতে ব্যবহার করতে হবে।


ব্যবহার পদ্ধতিঃ

প্রথমে মুরগীর ঘরের আয়তন   অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পটাশ ও ফরমালহিাইডের পরিমাণ হিসাব করতে হবে। তারপর ঘরের  ভিন্ন ভিন্ন স্থানে রক্ষিত পাত্রে ফরমালডিহাইইড রেখে নির্দিষ্ট  দূরত্বে সাজাতে হবে। এরপর এক দিক থেকে পটাসিয়াম পারম্যাংগানেট পাত্রে ঢেলে ঘর থেকে বের হয়ে দরজা বন্ধ করে দিতে হবে। ২৪ ঘন্টা এবাবে তাকার পর দরজা খুলে দিতে হবে।


জীবানুনাশক ব্যবহারের পর নির্দেশনাঃ

জীবানুনাশক ব্যবহারের  পর নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে
  1. জীবানুনাশক ব্যবহার করা হলো তা রেকর্ড রাখতে হবে
  2. ব্যবহারের পর প্যাকেট বা বোতলের মুখ বন্ধ রাখতে হবে
  3. জীবানুনাশক শুল্ক ও ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে
  4. ব্যবহার শেষ হলে প্যাকেট বা বোতলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

খাবারের বর্জ নিস্কাশনঃ

  1. বর্জ পদার্থ যেকানে সেখানে ফেলা যাবে যাবে না।
  2. কুকুর, বিড়াল, বন্যা প্রাণি, পাখি, কাজ যাতে বর্জ খেতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  3. সরাসরি জমিতে সার হি সাবে ব্যবহার করা যাবে  না।
  4. মাছের ভাদ্য হিসাবে সরাসরি পুকুরে ব্যবহার করা যাবে না।

ময়লা আবর্জনা নিস্কাশনঃ
  1. মাটি চাপা দেয়া-নির্দিষ্ট জায়গায় অন্তত ৩ ফুট নীচু বস্তাবন্দী করে মাটি চাপা দিতে হবে।
  2. পঁচানো-২ ভাগ লতাপাতা+১ ভাগ বর্জ গর্তের মধ্যে পলিথিন বিছিয়ে ৭ দিন রাখতে হবে। ৭ দিন পর উল্টিয়ে পুনরায় ৭ দিন রাখতে হবে। এভাবে পঁচানো বর্জ সার হিসাবে ব্যবহার করা যায়।
  3.  






বানিজ্যিক খামারের বায়োসিকিউরিটি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রামত্ম জরুরী করণীয়ঃ

বানিজ্যিক পোল্ট্রি খামারের জন্য বায়োসিকিউরিটি রোগ প্রতিরোধ ও সুষ্ঠু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে। তাই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক সম্প্রতি বায়োসিকিউরিটি বিষযক যে নির্দেশনা  জারি করা হয়েছে  তা সকল বানিজ্যিক খামরীদেরকে অনুসরন করতে হবে।

১.î    খামারের জন্য স্থান নির্বাচন / খামারের অবস্থানঃ

১.       একটি খামার থেকে অন্য খামারের ন্যূনতম দুরত্ব থাকবে কমপক্ষে - ২০০ মিটার
২.       একটি পারিবারিক খামার থেকে বানিজ্যিক খামারের ন্যূনতম দরত্ব হবে -  ২০০ মিটার 
৩.       প্রক্রিয়াজাত কারাখানা থেকে বানিজ্যিক খামারের ন্যূনতম দুরত্ হবে - ০১ কি:মি:
৪.       জীবন্ত মুরগির বাজার থেকে খামারের ন্যূনতম দুরত - ০১ কি :মি:
৫.       লোকালয় থেকে খামারের ন্যূনতম দুরত্ব - ৫০০ মিটার
৬.       বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থান থেকে খামারের ন্যূনতম দুরত কমপক্ষে - ০১ কিমি:
৭.       জলাশয় থেকে খামারের দুরত্ব - ২০০ মিটার
৮.       নদী থেকে খামারের ন্যূনতম দুরত্ব - ০১ কিমি:
৯.       মুরগির কাঁচা বিষ্ঠা সার হিসেবে ব্যবহার করা হয় এমন জমি থেকে খামারের দুরত্ব  - ২০০ মিটার
১০.     খামারের বেষ্টনি থেকে শেডের ন্যূনতম দুরত্ব - ০২ মিটার
১১.     বড় গাছ থেকে খামারের দুরত্ব  - ১০০ মিটার
১২.     গোসলখানা  ও পায়খানা থেকে শেডের ন্যূনতম দুরত্ব  - ১০ মিটার

২. î  খামারের বৈশিষ্টঃ
১.       খামারের চারপাশে অবশ্যই ২(দুই) মিটার উঁচু নিরাপদ বেষ্টনি থাকবে
২.       শেডের জন্য অবশ্যই এমন দরজা থাকতে হবে যা বন্ধ করা যায়
৩.       খামারে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য একটি মাত্র গেট/ দরজা থাকবে
৪.       দরজায় সবসময় প্রহরী / বন্ধ থাকতে হবে
৫.       খামারে প্রবেশ ও বের হওয়ার দরজায় অবশ্যই ‘‘প্রবেশ সংরক্ষিত’’/ প্রবেশ নিষেধ লেখা থাকবে
৬.       শেডের দরজা সবসময় বন্ধ থাকবে
৭.       কম বয়সী মুরগির শেড বাতাস প্রবাহের উল্টা দিকে থাকবে
৮.       দুইটি শেডের  মধ্যে ন্যূনতম দুরত্ব হবে শেডের প্রশত্বতার দ্বিগুন
৯.       শেডগুলোতে পাখি প্রতিরোধক জাল থাকবে
১০.     একই খামারে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি পালন করা যাবে না
১১.     একই শেডে বিভিন্ন বয়সের পাখি পালন করা যাবে না
১২.     খামারে অপরিশো ধিত / দুষিত পানি সরবরাহ করা যাবে না
১৩.     মৃত মুরগি অপসারনের জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে
১৪.     খামারের বর্জ্য অপসারনের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে
৩. îযাতায়াতঃ
১.       খামারের ভিতরে ব্যবহৃত যানবাহন  বাইরে ব্যবহার করা যাবে না
২.       এক খামারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম অন্য খামারে ধার দেওয়া বা ব্যবহার করা যাবে না
৩.       খামারে প্রবেশের জন্য দর্শকের তালিকা করে পোশাক পরিবর্তন করে ও শরীর জীবানুমুক্ত করে প্রবেশ করাতে হবে
৪.       দর্শনার্থী দুটি খামার দেখলে কমপক্ষে মাঝখানে সময়ের ব্যধান থাকতে হবে ২৪ ঘন্টা
৫.       যানবাহন খামারে প্রবেশের আগে জীবানুনাশক দিয়ে ধুয়ে জীবানুমুক্ত করতে হবে ও জীবানুনাশকযুক্ত চৌবাচ্চার ভিতর দিয়ে ঢুকবে যাতে চাকা জীবানুমুক্ত হয়ে যায় 
৬.       যানবাহনকে শেডের নিকট আনা যাবে না কমপক্ষে শেড থেকে ৩০ মিটার দুরে রাখতে হবে
৭.       যানবাহনের চালক শেডে ঢুকবে না
৮.       একজন কর্মী একাধিক শেডে কাজ করবে না , যদি কখনো অন্য শেডে যেতে হয় তবে কাপড় পরিবর্তন ও গোসল করে ঢুকতে হবে
৯.       খামার কর্মী , ব্যবস্থাপক ও ভেটেরিনারীয়ান ছাড়া কোন ব্যক্তি শেডে ঢুকবে না
১০.     অন্য কাজে নিয়োজিত শ্রমিক কখনোই শেডে ঢুকবে না
১১.     এক খামারের কর্মী ও ব্যবস্থাপক অন্য খামারে যাবে না ও কোনভাবেই শেডে ঢুকবে না
১২.     খামার কর্মী ও ব্যবস্থাপক জীবন্ত মুরগির বাজার , ডিম ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র  , ঔষধের দোকান ও অন্য যেকোন প্রক্রিয়াকরণ কারখানা পরিদর্শন করতে পারবে না।
১৩.     বিভিন্ন বয়সী মুরগি পালনের ক্ষেত্রে প্রথমে কম বয়সী ও পরে বেশি বয়সী মুরগির পরিচর্যা করতে হবে।
১৪.     কর্মী ও ব্যবস্থাপক কোথায়ও বাইরে কোন কাজে গেলে পোশাক পরিবর্তন ও গোসল করে শেডে ঢুকবে।


৪.î   কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য পাখি নিয়ন্ত্রনঃ
১.       খামারকে ইঁদুরমুক্ত রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে
২.       প্রতিনিয়ত শেড ও আশাপাশ পরীক্ষা করে দেখতে হবে যেন কোন ইঁদুর বা অন্যান্য কীটপতঙ্গ ও পাখি প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি না হয় 
৩.       ইঁদুরের গর্ত বন্ধ করতে হবে ও  ইঁদুরের পায়খানা  পরিষ্কার করতে হবে
৪.       ময়লা আবর্জনা শেড থেকে কমপক্ষে ৩০ মিটার দুরে ফেলতে হবে
৫.       শেডের চারপাশের ঘাস ও আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে
৬.       ইঁদুর অন্যান্য কীটপতঙ্গ ও পাখির মৃত দেহ দ্রুত অপসারন করতে হবে । মৃত পাখি দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলতে হবে। সরানোর আগে মৃত পাখিকে কীটপতঙ্গমুক্ত পাত্রে রাখতে হবে।
৭.       খাবার পাত্রের আশপাশ থেকে দ্রুত পরিত্যক্ত খাবার নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
৮.       শেডের মেঝে পাকা করতে হবে।
৯.       কীটপতঙ্গ ,দুর করতে নিয়মিত অনুমোদিত কীটপতঙ্গ নাশক ব্যবহার করতে হবে।
১০.     খামারে উকুন , মাছি , মাইট নিয়ন্ত্রন করার পরিকল্পনা থাকতে হবে।
১১.     খামারে বন্য পাখি প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
১২.     খামারে কুকুর , বিড়াল প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
১৩.     খামারের ৩০ মিটারের মধ্যে গরু , ছাগল ইত্যাদি পালন করা যাবে না।
১৪.     খামারে কর্মরত কেউ কবুতর , ময়না , টিয়া অন্যান্য পাখি পালন করতে পারবে না।



৫.îশেড পরিষ্কার ও জীবানুমুক্তকরণঃ
১.       ব্যবহৃত লিটার আবদ্ধ পাত্র বা স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। বিক্রয়ের আগে অনুমোদিত উপায়ে কম্পোস্ট করতে হবে।
২.       লিটার খামারের আশেপাশের জমিতে ছড়ানো যাবে না।
৩.       ব্যবহৃত লিটার নতুন / পরিষ্কার লিটারের পাশে রাখা যাবে না।
৪.       খামার থেকে লিটার অপসারনের পর রাস্তা থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লিটার পরিষ্কার করতে হবে।
৫.       লিটার অপসারনের পর ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি/সরঞ্জাম পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করতে হবে।
৬.       লিটার অপসারনের পর শেড ভালভাবে ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
৭.       খামারে ব্যবহৃত ফ্যান , লাইট , মোটর , ব্রুডার ইত্যাদি ভালোভাবে পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করতে হবে।
৮.       খামারের ভিতর বাহিরে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি ভালোভাবে ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
৯.       খামারের ভিতর বাহিরে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি অনুমোদিত জীবানুনাশক দিয়ে জীবানুমুক্ত করতে হবে।
১০.     খামারের সকল খাদ্য ও পানির পাত্র হোভার ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করতে হবে।
১১.     খামারের পানি সরবরাহ লাইন নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করতে হবে।
১২.     শেড পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করার পর কমপক্ষে দুই সপ্তাহ খালি রাখতে হবে।
১৩.     দুর্গন্ধ,ফাংগাস , পোকা মাকড় ও অন্যান্য জীবানুমুক্ত পরিষ্কার লিটার ব্যবহার করতে হবে।
১৪.     খামারে নতুন বাচ্চা উঠানোর আগে সকল খাদ্য ও পানির পাত্র , হোভারসহ শেডের ভিতরের সকল সরঞ্জাম পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করতে হবে।
১৫.     খামারে কর্মরত কর্মীদেরকে জীবানুনাশকের সঠিক  ব্যবহার ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার সর্ম্পকে সঠিক ধারনা থাকতে হবে।
১৬.     ভ্যাক্সিনেশন যন্ত্রপাতি , ডিবিকার , ডিমের ট্রে ডিমের বক্স ইত্যাদি খামারে প্রবেশের আগেই পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করতে হবে।  


৬.îব্যক্তিগত ও পোশাক পরিষ্কার ও জীবানুমুক্তকরণঃ

১.       গাড়ী খামার থেকে বের হবার পর সমস্ত গাড়ী পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করতে হবে।
২.       কর্মীদের খামারে প্রবেশের আগেই জুতা ও জামাকাপড় পরিষ্কার করতে হবে।
৩.       খামারের বাইরে ব্যবহৃত জুতা জামা কোনক্রমেই খামারের ভিতরে নেওয়া যাবে না।
৪.       খামারের প্রতিটি শেড ও ব্রুডারের জন্য পৃথক পৃথক জুতা  পোশাক ব্যবহার করতে হবে।
৫.       খামারে ব্যবহৃত পোশাক নিয়মিত পরিষ্কার ও আয়রন করতে হবে।
৬.       খামারে ব্যবহৃত জুতা ব্যবহারের আগে ও পরে নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করতে হবে।
৭.       খামারের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করার সময় হাত পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত করতে হবে।
৮.       প্রতিটি শেডের সামনে ফুটবাথ থাকবে ও প্রতিদিন পরিষ্কার করে সঠিকভাবে জীবানুনাশক মিশাতে হবে।
৯.       দর্শনার্থী শেডে প্রবেশ করবে না ; যদি কখনও জরুরী প্রয়োজন হয় তবে পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত ক্যাপ ,   এপ্রোন,হ্যান্ডগে­াব , শেডের জুতা ইত্যাদি পরে ঢুকতে হবে। ব্যবহারের পর আবার সেগুলো পরিষ্কার করে ধুয়ে জীবানুমুক্ত করতে হবে। ওয়ানটাইম ব্যবহার যোগ্য হলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
১০.     খামারের কর্মীদের সবসময় ফ্লু রোগ ও খাদ্য বাহিত রোগের টিকা নিতে হবে।
১১.     খামারে অবশ্যই কর্মীদের জন্য গোসলখানা , পায়খানা , বেসিন , সাবান, জীবানুনাশক থাকতে হবে।

৭.îমুরগির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংঃ
১.       মুরগি অসুস্থ হলে বা সমস্যা হলে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে।
২.       মুরগি অসুস্থ হলে বা মা