Showing posts with label পল্টি চিকিৎসা. Show all posts
Showing posts with label পল্টি চিকিৎসা. Show all posts

Friday, April 17, 2020

পল্টির রক্তা আমাশয়।।Poultry Coccidiosis





রক্তা আমাশয় (Coccidiosis)


রক্তা আমাশইয়ের লক্ষণঃ 


Ø     রক্ত মিশ্রিত মল ও মৃত্যু এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

Ø     আক্রান্ত মুরগির বাচ্চা চোখ বন্ধ করে ঝিমাতে থাকে।

Ø     ডানা ঝুলে পড়ে।

Ø     প্রচুর পানি পান করে অথবা পিপাসা বেড়ে যায় প্রায় দ্বিগুন।

Ø     পাতলা পায়খানা সাথে লালচে জাতীয় পদার্থ বা মিউকাস থাকে।

Ø     আস্তে আস্তে বাচ্চা রক্ত শুন্যতায় দূর্বল হয়ে মরতে শুরু করে।

Ø     ছোট বাচ্চাদের মৃত্যুর হার ৮০-৯০% হয়।

Ø     বড় মুরগি রক্ত আমাশয় দেখা দিলে মাথার ঝুঁটি ও গলার ফুল ফেকাসে দেখায় এবং পায়খানার সাথে মরা রক্ত বের হয়।

Ø     মৃত্যুর সংখ্যা খুব কম।

Ø     বড় মুরগি এ রোগের জীবানু বহনকারী হিসাবে কাজ করে।

রক্তা আমাশইয়ের রোগ নির্ণয়ঃ 



  1.  লক্ষণ পর্যালোচনা করে এ রোগ নির্ণয় করা যায়
  2.  আক্রান্ত মুরগির বাচ্চা/ মুরগিদের পায়খানা মাইক্রোস্কোপে পরিক্ষা করে রপগ নির্ণয় করা যায়।
  3.  মৃত্য মুরগি ময়না তদন্ত করে পরিপাক্তন্ত্রের দেয়ালে ও সিকামে রক্ত মিশ্রিত পায়খানা, রক্ত ক্ষরণ দেখে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

রক্তা আমাশইয়ের চিকিৎসাঃ 


=>      এমবাইজিন পাউডার ৫০০ গ্রাম

২ গ্রাম ঔষধ ১ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে পর পর ৩ দিন চলবে।

এর পর ২ দিন শুধু মাত্র পানি চলবে।

পরের ৩ দিন ঔষধ চলবে।

এর পর ২ দিন শুধু মাত্র পানি চলবে।

পরের ৩ দিন ঔষধ চলবে।

অথবা,

ই এস বি ৩ ৩০% ভেট প্যাকেটের নির্দেশনা অনুসারে খাওয়াতে হবে।

রক্তা আমাশইয়ের প্রতিরোধঃ 


নিম্নের যে কোন একটি ঔষধ মুরগির বাচ্চা/ চিক রিয়ারিং ইউনিটে ব্যাবহার করে রক্তামাশায় রোগ প্রতিরোধ করা যায়। যেমন- লারবেক্স, কারডিন-২৫, ডিকক্সিপ্রিমিক্স ইত্যাদি।

Murgir Rokto Amasoy



পল্টি ক্যানাবলিজম।।Canabolism



পল্টি ক্যানাবলিজম (Canabolism)


প্রধানত পুষ্টিহীনিতা, টাসাটাসি পালন, বহিপরজীবি, ঘরে বেন্টিলেশন কম হলে, আবাহাওয়া অতন্ত্য চরম ভাবাপন্ন, ঘরে আলোর পরিমাণ মাত্রাতিক্ত ফিলেট খাদ্য খাওয়ালে ইত্যাদি।

পল্টির ক্যানাবলিজমের লক্ষণঃ


Ø দলছুত হয়ে এক কোনে বসে থাকে।

Ø পায়ে টুকরানো।

Ø পালক তোলে ফেলা।




Ø পায়ের আঙ্গুল টুকরানো।

Ø অন্য মুরগির সাথে টুকরা টুকরি।

Ø নিজের ডিম ভেঙ্গে খেয়ে ফেলা।


Ø ওনেক সময় দেখা যায় টুকরা টুকরির ফলে রক্ত বের হয়।

Ø এই ক্ষত স্থানে অন্য মুরগিও টুকরাতে শুরু করে।

Ø কখোনো কখোনো টুকরাতে টুকরাতে মেরে ফেলে।

পল্টির ক্যানাবলিজমের রোগ নির্ণয়ঃ 


বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ও রোগের ইতিহাস জেনে এই রোগ নির্ণয় করা যায়।

পল্টির ক্যানাবলিজমের চিকিৎসাঃ 


কারন অনুযায় চিকিৎসা ও প্রতিরোধ করেতে হবে-

  •  মুরগিকে খাদ্য গ্রহনের ও পানি পানের পর্যাপ্ত জায়গা, পর্যাপ্ত বাসস্থান নিয়মিত পানি ও খাদ্য সরবরাহ করেলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।


  •  বাড়ন্ত বয়সে (৪-৬ সাপ্তাহ) পাখির ঠোঁট কর্তন/ ডেবিকিং করলে বহুলাংশে প্রতিরোধ হয়।
  • কোন মুরগির গায়ে ক্ষত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁক হতে সরিয়ে নিতে হবে।

Murgir tukratukrir Samadan cikitsa, 

Murgir maramarir cikitsa samadan, 

মুরগির টুকরাটুকরি চিকিৎসা সামাধান,

মুরগির মারামারির চিকিৎসা সামাধান,

Thursday, April 16, 2020

মুরগির মাইটস আক্রমন।।Poultry Mites Infestation


মাইটস আক্রমন (Mites Infestation)

পোল্ট্রির মাইটস এ রোগের কারণ।

মুরগির মাইটস আক্রমনের লক্ষণঃ

Ø পাখির অস্থিরতা প্রকাশ পায়।

Ø আহার কমে যায়।

Ø রক্তশুন্যতায় ভূগে।

Ø শরীরের বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটে।

Ø ক্ষতের সৃষ্টি করে।

Ø গায়ের পায়ের আঁশ সৃষ্ট হয়।

Ø মাইট্রেট আক্রান্ত স্থান প্রচুর চুলকায়।

Ø ক্ষত ও পালক তুলে ফেলে।

মুরগির মাইটস রোগ নির্ণয়ঃ


বৈশিষ্টপূর্ণ উপসর্গ ও চাক্ষুস পরিক্ষা ও রোগের ইতিহাস জেনে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

চিকিৎসা ও প্রতরোধঃ

মুরগির ঘরে ও দেহে উকুন ও মাইটস মারার জন্যে কিটনাশক ঔষধ ব্যাবহার করতে হবে।

ম্যালাথিন ৫% পানিতে অথবা সেভিন ৫ গ্রাম/ ৫ মিলি ঔষধ ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ২০ টি মুরগিকে স্প্রে করতে হবে।

সাবধানতাঃ


  •  ঔষধ কোন ক্রমে মাত্রার বেশি দেওয়া যাবে না।
  •  স্প্রে করার ২ ঘন্টা পর পরিস্কার পানি দিয়ে পাখির পালক ধুঁইয়ে মুছে দিতে হবে।
  •  মুরগির গায়ে ক্ষত থাকলে স্প্রে করা ঠিক নয়।
  •  স্প্রে করার সময় ঔষধের পানি চোখ, মুখ, কানে প্রয়োগ করা যাবে না।
  •  ঔষধ দিনে একবার প্রয়োগ করা যাবে।
 ঔষধ প্রয়োগের ১৪ দিন পর পুনরায় প্রয়োগ করতে হবে।

মুরগির উকুন
মুরগির মাইট
Murgir ukun
Murgir mait

মুরগির উকুন।।Lice



মুরগির উকুন (Lice)


উকুনের লক্ষণঃ


Ø মুরগি সর্বদা বিরক্তিবোধ করে, ঠোঁট দিয়ে সর্বদা পালক চুলকায়।

Ø ওজন হ্রাস পায় এবং রক্তশুন্যতায় ভোগে।

Ø এ রোগে আক্রান্তের ফলে ডিম উৎপাদন অস্বাভাবিক ভাবে হ্রাস পায়।

Ø সর্বদা পালক চুল্কানোর ফলে পালক সমূহ নষ্ট হয়ে যায়।

Ø মুরগিকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করলে উকুন দেখা যায়।

মুরগির উকুনের চিকিৎসা বা প্রতিরোধঃ 


কাঠ পোড়ানো ছাই ২ ভাগ সোডিয়ামফ্লোরাড ১ ভাগ ২১ অনুপাতে মিশিয়ে পাফের সাহায্যে আক্রান্ত মুরগির মাথা পালকের গোড়া, লেজ ও মলদ্বারের চারপাশে আস্তে আস্তে বুলিয়ে ঝেড়ে ফেলতে হবে। ঔষধটি যাথে মুরগির চোখে মুখে না যায়।

Murgir ukun

মুরগির বৃহদান্তে কৃমি ।।Heterkis gallinarum



বৃহদান্তে কৃমি (Heterkis gallinarum)


Heterkis gallinarum নমক গোল কৃমি।

বৃহদান্তে কৃমিরোগের লক্ষণঃ


Ø বাদামী রঙের পাতলা পায়খানা করে।

Ø আক্রান্ত মুরগির খাদ্য খাওয়া কমে যায় এবং আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায়।

Ø ডিমপাড়া মুরগির ডিম একেবারে কমে যায়।

Ø পালক উসকো-খুসকো হয়ে যায়।

বৃহদান্তে কৃমিরোগের চিকিৎসাঃ


  •  এভিপার ১০ গ্রাম পাউডার ৬ লিটার পানিতে (১০০টি ৬ সপ্তাহে বাচ্চা অথবা ৩০ টি পূর্ণবয়স্ক মুরগির জন্যে) মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
  • পোলনেক্স প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.০০৮ গ্রাম হিসাবে পানির সাথে মিশিয়ে ১ দিন খাওয়াতে হবে।

মুরগির গোলকৃমি আক্রমন (Round Worm)


গোলকৃমি আক্রমন (Round Worm)


অ্যাকরিডিয়া গেলি (Ascadia galli) নামক গোলকৃমি।

মুরগির গোলকৃমি আক্রমনের লক্ষণঃ


Ø পালক উসক-খুসকো দেখা জয়ায়।

Ø শরীর বৃদ্ধি হয় না।

Ø বুকের হাড় সহজে দেখা যায়।

Ø পাখায়না পাতলা করে।

Ø মাঝে মাঝে পায়খানায় সুতার ন্যায় কৃমি দেখা যায়।

Ø রক্ত শুণ্যতা দেখা যায়।

Ø মুরগি ক্রমে দূর্বল হতে থাকে।

Ø ডিম উৎপাদন কমে যায়।

Ø কোন কোন সময় কৃমি অন্তনালীতে এত বেশি পরিমানে হয় যে অন্তনালী কৃমি দ্বারা বন্ধ হয়ে যায় ফলে মুরগি না খেয়ে মারা যায়।

Ø অবশেষে মুরগি মৃত্যুবরণ করে।

মুরগির গোলকৃমি আক্রমনের রোগ নির্ণয়ঃ 


 বৈশিষ্টপূর্ণ উপসর্গ ও রোগের ইতিহাস জেনে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

 মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে মুরগির মল মূত্র পরিক্ষা করে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

 ময়না তদন্তের মাধ্যমে অন্তনালীতে কৃমির উপস্থিতি দেখে এই রোগ নির্ণয় করা যায়।

মুরগির গোলকৃমি আক্রমনের চিকিৎসাঃ 


             এভিপার ১০ গ্রাম পাউডার ৬ লিটার পানিতে (১০০টি ৬ সপ্তাহে বাচ্চা অথবা ৩০ টি পূর্ণবয়স্ক মুরগির জন্যে) মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।

             পোলনেক্স প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.০০৮ গ্রাম হিসাবে পানির সাথে মিশিয়ে ১ দিন খাওয়াতে হবে।

মুরগির গোলকৃমি প্রতিরোধঃ 


মুরগির বয়স যখন ৪২ দিন সে সময় থেকে কৃমিনাশক প্রথম বার উপরে বর্ণিত নিয়মে খাওয়াতে হবে। ৯০-১০০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বার এবং ডিম পাড়ার সময়ের মধ্যে ২ মাস অন্তর অন্তর কৃমি নাশক দিতে হবে।


Duck Viral Hefatitis।।ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস



Duck Viral Hefatitis ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস


ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস হাঁসের একটি মারাত্বক ভাইরাস ঘটিত রোগ। এই ভাইরাসের জীবন শক্তি অত্যান্ত শক্ত এবং আক্রান্ত খামার হতে এই রোগ জীবানু ধংস করা অত্যান্ত কঠিন। সাধারন জীবানু নাশক ওষুধ দ্বারা এই জীবানু ধংস করা যাইনা। সাধারণত ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস হাঁসের বাচ্চা আক্রান্ত হয়।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগের কারণঃ


Ø ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস ভাইরাস এ রোগের কারণ।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগ বিস্তারঃ

  •  আক্রান্ত হাঁসের বাচ্চা সংস্পর্শে।

  • আক্রান্ত হাঁসের পায়খানা, পালক ইত্যাদির মধ্যমে।

  • খাদ্য, পানি ও বাহকের মাধ্যমে।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগের লক্ষন সমুহঃ


  •  সাধারনত ১দিন থেকে ৫ সাপ্তাহ বয়সের হাঁসের বাচ্চা ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়।
  •  আক্রান্ত বাচ্চা দুর্বল হয় এবং চলাফেরা করতে পারেনা।
  • বাচ্চার বয়স যত কম রোগের তীব্রতা এবং বাচ্চার মৃত্যুর হার তত বেশি।
  • আক্রান্ত বাচ্চার মৃত্যুর হার ১০০% পর্যন্ত হতে পারে।
  • অধিকাংশ সময় অসুস্থ বাচ্চা চোখ বন্ধ করে ঝিমাতে থাকে।
  • দেহে খিচুনি হয় এবং অনেক সময় এক দিকে কাত হয়ে পড়ে থাকে।
  • মাথা পিছনের দিকে বেঁকে কে।
  • মৃত বাচ্চার কিডনি ও লিভার ফুলে যায়।
  •  পায়খানার সাথে রক্ত থাকতে পারে।
  •  ৪/৫ সাপ্তাহ পর আক্রান্ত বাচ্চা অনেক সময় ভাল হয়।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগ নির্ণয়ঃ

হঠাৎ হাসের বাচ্চার পালে আক্রমন, অল্প সময়ে অনেক মৃত্যুর হার এবং অন্যান্য লক্ষন এই রোগ চিনতে সাহায্য করে। মৃত বাচ্চার ময়না তদন্ত করে এই রোগ নিশ্চিতভাবে সনাক্ত করা যায়। ময়না তদন্তে এ রোগে মৃত হাঁসের কিডনি ও লিভার স্বাভাবিক আকারের চেয়ে দ্বিগুন বড় দেখা যায়।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগের চিকিৎসাঃ


রোগের করণ ভাইরাস বিধায় সুষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। অন্য রোগের জটিলতা হতে রক্ষা করতে যে কোন একটি এন্টিবায়োটিক বা সালফাডায়াজল প্রয়োগ করতে হবে।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগেরপ্রতিরোধঃ 

বাচ্চা হাঁসের পিতা মাতার এই রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে বাচ্চারা এ রোগে আক্রান্ত হয়না। এ জন্যে ব্রিডিং খামারের সকল হাঁসকে এই রোগের টিকা দেওয়া উচিৎ। হাঁসের রক্তের সিরাম আক্রান্ত বাচ্চার দেহে ইঞ্জেকশান দিলে প্রতিকার পাওয়া যায়। এই রোগ প্রতিকারে ব্রিডার হাঁসকে টিকা প্রদান করতে হয়।

ডাক প্লেগ রোগ।।Duck Plaque Disease




ডাক প্লেগ রোগ (Duck Plaque Disease)

ডাক প্লেগ (Duck plaque) নামক ভাইরাস।

ডাক প্লেগ রোগের লক্ষণঃ


· হঠাৎ করে আক্রান্ত হয়ে অধিক হারে মৃত্যু শুরু করে।

· অত্যাধিক পানি পিপাসা থাকে।

· খাদ্য গ্রহণে অনীহা, মাতাহ নিচু করে শুয়ে থাকে।

· চখ দিয়ে পানি পরে।

· হঠাৎ ডিম পাড়া বন্ধ হয়ে যায়।

· কখনো কখনো পায়ে অবশতা দেখা যায়।

· শ্বাস কষ্ট, নাক মুখ দিয়ে তরল পদার্ত নির্গত হয়।

· আক্রান্ত হওয়ার পর এক সাপ্তাহের মধ্যেই মৃত্যু হয়।

· মৃত্যুর হার শতকরা ৯০-১০০ ভাগ পর্যন্ত হয়।

· মৃত হাঁসের খদ্যতন্ত্রের গত্র, হৃৎপিন্ড, যকৃক, ডিম্ব থলি এবং দেহাভ্যন্তরে অন্যান্য অঙ্গে জমাট রক্ত কণা দেখা যায়।

ডাক প্লেগ রোগ নির্ণয়ঃ


· রোগের লক্ষণ দেখে রোগের প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

· মৃত হাঁসের দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঙ্ঘ পরিক্ষা করতে হয়।

· আক্রান্ত বা মৃত হাঁস গবেষণাগারে পরীক্ষা করে গবেষকগণ অতি সহজেই এ রোগ নির্নয় করতে পারে। 


ডাক প্লেগ রোগের চিকিৎসাঃ


1. এ রোগে আক্রান্ত হাঁসের কোন চিকিৎসা নেই তবে,

2. সিপরোফ্লোসিন জাতীয় যেমন- এন্ডোসিন/ এনরক্স-১০, এনরো-১০/ সিনোফ্লক্স, সিপ্রোসল ইত্যাদি যে কোন একটি ১ মিলি ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়ালে উপকার হয়।

ডাক প্লেগ রোগের প্রতিরধঃ 


a. পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যপ্রদ ব্যবস্থাপনা এ রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সাহায্য করে।

b. নিয়মিত ভাবে ডাক প্লেগ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিসমুরগির রোগের।।Intechious laryngo-tracheitis


ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিস (Intechious laryngo-tracheitis)


ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিস মুরগির রোগের লক্ষণঃ 


· শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট দেখা যায়।

· নাক ও চোখ থেকে তরল পদার্থ বের হয়।

· পরে কাশি হাঁপানি ভাব এবং ঘড় ঘড় শব্দ করে।

· কাঁশির সঙ্গে নাক মুখ দিয়ে রক্ত মিশ্রিত মিউকাস বের হয়।

· মূলত মুরগির শ্বাসক্রিয়ায় ঘড় ঘড়, সাঁ সাঁ ও কাঁশি এ রোগের বৈশিষ্ট্য।

· শ্বাস গ্রহণ কালে হাঁপানো ভাব এবং অড় হা করে মাথা উপর দিকে উঠাতে দেখা যায় এবং শ্বাস ত্যাগ কালে মুখ বন্ধ করে নীচের দিকে নামিয়ে দেয়।

· শ্বাস নালীতে সৃষ্ট ইডিমা ফেটে যাওয়ায় মিউকাস বের করতে মুরগি বার বার মাথা ঝঁকায়।

· আক্রান্ত হওয়ার ৪-৫ দিনের মধ্যে অনেক মুরগি মারা যায় এবং মৃত্যুর হার অনেক বেশি হয়।

ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিস রোগ নির্ণয়ঃ 


আক্রান্ত মুরগির বয়স, রোগের তীব্রতা, লক্ষণ, কাশিতে রক্ত, শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ঘড় ঘড় শব্দ ইত্যাদি থেকে রোগ নির্ণয় সহজ হয়। এ ছাড়া ময়না তদন্তে শ্বাস তন্ত্রে ও শ্বাস যন্ত্রে প্রদাহ দেখা যায়। রোগের শেষ পর্যায় শ্বাস তন্ত্রে রক্তপাত ও নাক ও মুখের ভিতরে রক্ত মিশ্রিত মিউকাস দেখা যায়। 




ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিস রোগের চিকিৎসাঃ 


রোগের করণ ভাইরাস বিধায় সুষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। অন্য রোগের জটিলতা হতে রক্ষা করতে যে কোন একটি এন্টিবায়োটিক বা সালফাডায়াজল প্রয়োগ করতে হবে।

ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিস রোগের প্রতিরধঃ 


প্রতিষেধক টিকা প্রদানেই এ রোগ প্রতিরোধের এক মাত্র উপায়।

এভিয়ান লিউকোসিস মুরগির রোগ।।Avian lucosis

এভিয়ান লিউকোসিস রোগ


এভিয়ান লিউকোসিস নামক ভাইরাস।

এভিয়ান লিউকোসিস রোগের লক্ষণঃ


· আক্রান্ত মুরগির মাথার ঝুঁটি ফ্যাকাশে বা নীলাভ হয়।

· ঝুঁটি কুঁচকে যায়।

· খাদ্য গ্রহণে মুরগির অনীহা সৃষ্ট হয়।

· মুরগি নিস্তেজ হয়ে পড়ে ও দূর্বল হয়ে থাকে।

· মল পাতলা এবং মলের রং সবুজ হতে পারে।

· দেহের পালক ভাঙ্গা ভাঙ্গা ও ওষ্ক শুষ্ক দেখা যায়।

· আঙ্গুল দিয়ে টিপে দিয়ে আক্রান্ত অঙ্গের বৃদ্ধি অনুভব করা যায়।

· সাধারণত ১৪-১৬ সাপ্তাহ বয়সে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

এভিয়ান লিউকোসিস রোগ নির্ণয়ঃ


বর্ণিত লক্ষণ গুলো মুরগির অন্যান্য অনেক রোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখা যায়। তাই শুধুমাত্র লক্ষণ দেখে এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। সঠিকভাবে রোগ নির্ণইয়ের জন্য গবেষনাগারের সাহায্য প্রয়োজন।

এভিয়ান লিউকোসিস রোগের প্রতিরোধঃ

এই রোগের চিকিৎসা এখনো আবিস্কার হয়নি এবং এই রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন। যেহেতু আক্রান্ত মুরগির ডিমের মধ্যমে এই রোগ সংক্রামিত হয় সেহেতু রোগ মুক্ত হ্যাচারি থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে ষ্টেটারন হরমোন প্রয়োগ করে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। এ রোগের প্রতিকারের জন্যে স্বাস্থ্যপ্রদ ব্যাবস্তাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইনফেকোসাস ব্রংকাইটি মুরগির রোগ।। Infectious Bronchitis Chicken disease



ইনফেকোসাস ব্রংকাইটিস (Infectious Bronchitis)


এভিয়ান ইনফেকোসাস ব্রংকাইটিস (Infectious Bronchitis)নামক ভাইরাস।

ইনফেকোসাস ব্রংকাইটিস রোগের লক্ষণঃ


· শ্বাস নালীর সাঁ সাঁ শব্দ ও শ্বাস কষ্ট এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

· নাক মুখ দিয়ে শ্লেমা বার হয়।

· হাঁপানি, কাঁশি, অস্বাভাবিক শ্বাস শব্দ।

· ডিম পড়া মুরগির ডিম পাড়া কমে যায়।

ইনফেকোসাস ব্রংকাইটিস রোগের চিকিৎসাঃ


রোগের করণ ভাইরাস বিধায় সুষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। অন্য রোগের জটিলতা হতে রক্ষা করতে যে কোন একটি এন্টিবায়োটিক বা সালফাডায়াজল প্রয়োগ করতে হবে।

ইনফেকোসাস ব্রংকাইটিস রোগের প্রতিরোধঃ 


1. স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে লালন-পালন করতে হবে।

2. নাচিলিস Mas + ক্লোন ৩০ (লাইভ) ভ্যাক্সিন ১ দিনের বাচ্চাকে চোখে ফোটা অথবা খাবার পানিতে মিশিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

Wednesday, April 15, 2020

এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬।।Egg Drop Syndrome’76



এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬ (Egg Drop Syndrome’76)






এভিয়ান এডিনোভাইরাস নামক ভাইরাস।

এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬ রোগের লক্ষণঃ


· ডিমের রঙ বিবর্ণ হয়।

· ডিম পাড়া মুরগির ডিম উৎপাদন একেবারে কমে যায়।

· রোগে আক্রান্ত মুরগি খোসাবিহীন এবং

· খোসাযুক্ত ডিম পাড়ে। 


এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬ রোগ নির্ণয়ঃ


বৈশিষ্টপূর্ণ উপসর্গ দেখে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। এছাড়া ডিম পাড়া মুরগির হঠাৎ ডিম উৎপাদন কমে যাবে। এ তথ্য দেখে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬ রোগের চিকিৎসাঃ


এ রোগ ভাইরাসজনিত তাই এ রোগের কোন চিকিৎসা বা ঔষধ নেই।

এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬ রোগের প্রতিরোধঃ


সময় মত টিকা প্রয়োগ করে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

ম্যারেক্স রোগ।।Marek’s Disease


ম্যারেক্স রোগ (Marek’s Disease)





হারপিস নামক ভাইরাস।

ম্যারেক্স রোগের লক্ষণঃ


· এ রোগের ভাইরাস যে সব অঙ্গের স্নায়ুতে আক্রমন করে ঐসব অঙ্গ প্যারালাইসিস হয়ে যায়।

· ডানার স্নায়ু আক্রন্ত হলে ডানা ঝুলে যায়।

· পায়ের স্নায়ু আক্রান্ত হলে পা অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে হাঁটতে পারে না।

· ঘাড়ের মাংস পেশী আক্রান্ত হলে মাথা নিচু হয়ে ঝুলে পড়ে।

· সাধারনত ৬-১০ সপ্তাহের মোরগ-মুরগি এ রোগ বিশেষ ভাবে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

· এ রোগে আক্রান্ত মুরগি ৫-৫০% মারা যেতে পারে।

ম্যারেক্স রোগ নির্ণয়ঃ


1. বৈশিষ্টপূর্ণ উপসর্গ এবং রোগের ইতিহাস জেনে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

2. বিদেশি জাতের মুরগি ও মুরগির বয়স ৬-১০ সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য থেকে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

ম্যারেক্স রোগের চিকিৎসাঃ


এই রোগ ভাইরাস জনিত তাই এ রোগের কোন চিকিৎসা বা ঔষধ নেই।

ম্যারেক্স রোগের প্রতিরোধঃ


টিকা প্রয়োগ করে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। বর্তমানে স্বল্প সংখ্যক হ্যাচারী থেকে সদ্য ফুটন্ত মুরগির বাচ্চাকে ম্যারেক্স রোগের টিকা দেয়া হয়ে থাকে।

বসন্ত রোগ।।Avian pox

বসন্ত রোগ (Avian pox)


এভিয়ান হ্যারপেচ (Avian herpes) নামক ভাইরাস।

 বসন্ত রোগের লক্ষণঃ



  •  মুরগির মাথার ঝুঁটি, কানের লতি, গলার ঝুঁটি, চোখের পাতা, ঠোঁটের পার্শ্বেও ত্বকের বসন্তের গুটি সৃষ্ট হয়।
  •  শ্বাস তন্ত্রের উপরিভাগে আবরণে ক্ষত এবং অনেক সময় মুখের মধ্যে ক্ষত হয় এতে মুখ হা করে নিশ্বাস নেয়।
  • মুরগির বাচ্চা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।

  •  বসন্ত চোখের পাতায় হয়ে চোখ বন্ধ হয় এবং অন্ধ হয়ে না খেয়ে না খেয়ে মারা যায়।

  •  পাখির জ্বর হয়।

  •  অরুচি হয়।


বসন্ত রোগ নির্ণয়ঃ


মুরগির পালক বিহীন স্থানে গুটি বসন্ত/ক্ষত দেখে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। এ ছাড়া ব্লাড অথবা আক্রন্ত স্থান হতে Swab নিয়ে ল্যাবরেটরী পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

বসন্ত রোগের চিকিৎসাঃ

1. পটাশিয়াম পারম্যাঙ্ঘানেট/ডেটল/সেভলন মিশ্রিত পানি দ্বারা বসন্তের গুটি দিনে ৩-৪ বার পরিস্কার করা প্রয়োজন।

2. গুটিতে এন্টিবায়োটিক মলম যেমন- Renanycin ointment অথবা Nebanol powder অথবা সুমেডভেট পাউডার আক্রান্ত স্থানে লাগালে ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যায়।

3. এছাড়া সালফার গ্রুপের ঔষধ যেমন- Cosmix plus Cositrim ১ গ্রাম ঔষধ ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।

4. Vitamix-P খাওয়াতে হবে।

বসন্ত রোগের প্রতিরোধঃ

৩০ দিনে বাচ্চা মুরগির প্রতম বার টিকা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে এর পর বছরে একবার করে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে পাখি বসন্ত রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

গামবোরো রোগ।।Gumbora



গামবোরো (Gumbora)




গামবোরো (Gumbora) নাম ভাইরাস।

 গামবোরো রোগের লক্ষণঃ


· আক্রান্ত মুরগির ক্ষুধা মন্দা ও দূর্বলতা, ময়লাযুক্ত পায়ুস্থান ও পানির ন্যায় সাদা ডায়ারিয়া দেখা দেয়।

· এছাড়া বিভিন্ন রঙ্গয়ের পাতলা পায়খানা করে, ঝিমানো, চোখ বুজে থাকা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, কাঁপুনী, অতি ক্লান্তিতে মাটিতে শুয়ে পড়ে।

· ডিহাইড্রেশনের কারণে দ্রুত ঝাঁকে ঝাঁকে মুরগি মারা যায়।

· এ রোগে খামারের মুরগির বাচ্চা মৃত্যুও হার ৩০-৪০% কখনো তার বেশী হয়।

· হঠাৎ পড়ে গিয়ে ছুটা ছুটি করে মারা যায়।

· প্রথম দিকে খামারের মৃত্যুর হার বেশী থাকে। ৪-৫ দিন পর মৃত্যুর হার কমে আসে।

· গামবোরো রোগে বেঁচে থাকা মুরগি মারাত্মক ভাবে উৎপাদন ক্ষমতা হারায়। 



গামবোরো রোগের নির্ণয়ঃ


1. আক্রান্ত মুরগির লক্ষণ্ন আচরন এবং মৃত্যুর হার দেখে এ রোগ সম্পর্কে অনুধাবন করা যায়।

2. ময়না তদন্ত করে এ রোগ সহজে নিরুপন করা যায়। এ রোগে মুরগির মলদ্বারের উপর বারসা বৃদ্ধি পায়, মটর শুটির চেয়ে ৩-৪ গুন বড় হয় এবং পরিবর্ত্ন হয়। এ ছাড়া বাসরায় রক্তক্ষরণ দেখা যায়। এছাড়াও উল্লেখ্যযোগ্য লক্ষণ হলো উরুর মাংসে/ডানার/বুকের মাংসে রক্তের কণা জমাট বাধা দেখা যায় অর্থাৎ মরা রক্তের কালচে pin point hemorrhage দেখা যায়।

গামবোরো রোগের চিকিৎসাঃ

ভাইরাস জনিত রোগের সাধারণত কোন চিকিৎসা নেইঃ আক্রান্ত মুরগির অন্যান্য জিবানুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যয় এন্টিভাইটিক দিতে হবে। নিন্ম লিখিত চিকিৎসা গুলো দিলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করে। যে কোন একটি উচ্চক্ষমতা  সম্পন্ন এন্টিভাইটিক, যেমনঃ
১।  enrox-10, Anro-10 ৫মিলি ওষুধ ২-৪ লিটার পানিতে মিশিয়ে পর পর ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।
২। ভিনিগার মিশিয়ে পানি পান করাতে হবে।
৩। যে কোন একটি মাল্টিভিটামিন প্যাকেটে নির্দেশিত মোতাবেক খাওয়াতে হবে।

গামবোরো রোগ প্রতিরোধঃ


জন্মের পর থেকে ১৪ দিনের মধ্যে গামবোরো ভ্যাক্সিন প্রদান করতে হবে। ২১ দিনে আবার Booster dose দিতে হবে। বায়োসিকোরিটি মানতে হবে।

রাণীক্ষেত রোগ।।Ranikhat


রাণীক্ষেত (Ranikhat)


ভেলোজেনিক ষ্ট্রেইন/মেসোজেনিক ষ্ট্রেইন/ল্যানটোজেনিক ষ্ট্রেইন নামক ভাইরাস।


 রাণীক্ষেত রোগের লক্ষণঃ


ভেলোজেনিক ষ্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত মুরগীর লিক্ষণ-


  •  হাঁচি, কাশি ও নাকমুখ হয়ে শ্লেমা নির্গমন।

  •  শ্বাসকষ্ট।

  •  ঝিমানো।

  •  নিস্তেজতা ও দুর্বলতাএবং সর্বশেষে মৃত্যু ঘটে থাকে।

  •  রোগের শেষের দিক স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয় এবং নানা স্নায়ুবিক লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমন- কাঁপানি, পা অবশ হওয়া ইত্যাদি দেখা যায়।

মেসোজেনিক ষ্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত মুরগীর লক্ষণ-

শ্বাসতন্ত্রই আক্রান্ত হয় হবে তীব্রতা বা মুরগীর কষ্ট বা মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে, এর লক্ষণ নিম্নরুপ-
  •  কাশি।
  •  ক্ষুধামন্দ, ডিম উৎপাদন হার হ্রাস।
  •  বাচ্চা মুরগীর এ ষ্ট্রেইন দ্বারা অধিকতর ক্ষতি হয়ে থাকে।

ল্যানটোজেনিক ষ্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত মুরগীর লিক্ষণ-

  •  হাঁচি, কাশি ও গলায় ঘড় ঘড় আওয়াজ শোনা যায়।
  •  বাচ্চার মৃত্যুর হার কম হলেও বাচ্চার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে হ্রাস পায়।


জেনারেল লক্ষণঃ



  •  হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলায় ঘড় ঘড় আওয়াজ এ রোগের প্রথম।
  •  শ্বাসযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র বিশেষভাবে আক্রান্ত হয়। শ্বাসতন্ত্র আক্রান্ত হওয়ায় শ্বাসকষ্ট হয় ফলে মুরগী গলা টান করে মুখ খুলে শ্বাস টানে।
  •  স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হওয়ায় পরবর্তী পর্যায়ে প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত দেখা যায়

  •  সাদা চুনের মতো পাতলা পায়খানা করে।

  •  কখনো বা সবুজ বা রক্তের দানা মিশ্রিত পায়খানা হবে।

  •  ঘাড়, ডানা ও পা অবশ বা প্যারালাইসিস হয়।

  •  কোন কোন রোগাক্রান্ত মুরগী অস্থির অবস্থায় পিছনের দিকে ঢলে পড়ে বা চক্রাকারে ঘুরতে থেকে।

  •  খাবার দাবার বন্ধ করে আড়ালে গিয়ে মাথা একদিকে বাঁখিয়ে রাখে অথবা পিছন ফিরে ডানায় গুঁজে রাখে।

  •  ডিম উৎপাদন আকস্মিকভাবে হ্রাস পায় অথবা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।

  •  তাছাড়া নরম বা খোসাবিহীন ডিম পাড়ে।

 রাণীক্ষেত রোগ নির্ণয়ঃ


· রোগের লক্ষণ দেখে এরোগে সহজেই নির্ণয় অরা যায়। এছাড়া এ রোগের দ্রুত বিস্তার এবং ব্যাপক মৃত্যুহার ও ডিম পাড়া মুরগির ডিমে আকার অসমতল ও বিকৃত হয়।

· এছাড়া ময়না তদন্ত করে এ রোগ অতি সহজেই নির্ণয় করা যায়। ময়না তদন্তে মুরগির পোভেন্টিকুলাসে এ petechal hemorrhage (পোভেন্টিকুলাসে ছোট ছোট রক্তের দাগ) থাকে। এছাড়া বিভিন্ন লাল, হলুদ, কালো ও অন্ত্রনালী পচে যায় এবং রক্ত ক্ষরণ হয়। Intestine এ Plug তৈরী হয়। শ্বাসনালীতে রক্ত দেখা যেতে পারে অথবা শ্বাসনালী ফুলে যেতে পারে।

 রাণীক্ষেত রোগের চিকিৎসাঃ


এ রোগের কোন চিকিৎসা নেই।

তবে,

1. প্রাতি দিন জীবাণুনাশক দ্বারা সম্পুর্ণ খামার ও খামারের সরমঞ্জামাদি জীবাণু মুক্ত করতে হবে।

2. ১ গ্রাম টিমসেন/পটাশ জীবাণু নাশক ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি দিন খাওয়াতে হবে।

3. ইঞ্জেকশন জেন্টামাইসিন ৫% ১মিলি ঔষধ ১৯ মিলি বিশুদ্ধ পানির সংগে মিশিয়ে আ মিলি করে অসুস্থ মুরগীর রানের মাংসে পর পর ৩ দিন প্রয়োগ করলে অনেক সময় পাওয়া যায়।

রাণীক্ষেত রোগ প্রতিরোধঃ

1. আক্রান্ত পাখি পৃথক করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

2. মৃত পাখি মাটিতে পুতে রাখতে হবে।

3. রোগক্রান্ত মুরগি কোন অবস্থায় হাট-বাজারে নেওয়া যাবে না।

4. বহিরাগতদের খামার ভিজিট করতে না দেওয়া।

5. সিডিওল মোতাবেক রাণীক্ষেত রোগের টিকা র রোগ প্রায় ৯০% প্রতিরোধ করা যায়।

ত্র্যাপারজিলসিস।।Aspergillosis



ত্র্যাপারজিলসিস (Aspergillosis)


ত্র্যাস্পারজিলেসিস ফিউমিগেটাস (Aspergillosis fumigates) নামক ছাত্রাক।

লক্ষণঃ



  •  নাসারন্ধ্র, ট্রকিয়া, ল্যারিংস, বায়ুরথলি এবং ফুসফুসে দানা দানা সাদা রঙ এর নডুল বা গোটা সৃষ্টি করে।
  •  বাচ্চামুরগীতে তীব্রভাবে লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়, বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হয় এবং রোগ মড়কে পরিণত হয়। 
  •  জ্বর, ক্ষুধামন্দ, নিস্তেজতা দেখা যায় আক্রান্ত বাচ্চা মূখ হা করে মাথা ও ঘাড় টান করে শ্বাস গ্রহণ করে।
  •  কখনো কখনো কাশিঁ, হাঁসি ও নাক মুখ দিয়ে শ্লেমা নির্গত হয়।


  •  মৃত্যুর হার অত্যাধিক বেশি।


  •  আক্রান্ত হওয়া ২-৪ দিনের মধ্যে ঝাঁকের অর্ধেকেরও বেশী মৃত্যু ঘটতে পারে।


  •  যকৃত ও অস্ত্র আক্রান্ত হলে ক্ষুধামন্দা ও ডায়রিয়া।


  •  মস্তিষ্ক আক্রান্ত হলে মেননজাইটিস হয় এবং দেহে খিঁচুনী দেখা যায়।


  •  চোখ আক্রান্ত হলে ফুলে যায়, চোখ পেচুটি জমে চোখ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।


রোগ নির্ণয়ঃ


শুধু লক্ষণ দেখে এ রোগ নির্নয় করা কঠিন। কারণ অন্যান্য রোগের লক্ষণের সংগে মিল আছে তাই Post mortem করে এ রোগ নির্ণয় করতে হয়।

চিকিৎসাঃ


এ রোগের প্রাথমিক অবস্থায় কপার (Copper) ১:১০০০ (০.২%) করে পানিতে মিশিয়ে ১-২ সপ্তাহ খাওয়ালে সুফল পাওয়া যায়।

অথবা,

প্রতিকেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ মিলিগ্রাম হিসাবে মিশিয়ে অথবা নির্ষ্টাটিন প্রতি পাখিকে ৬২৫ ইউনিট হিসাবে ৩ বার করে ৫-৬ দিন সেব্য।

মাইকোপ্লাজমোসিস।।Mycoplasmosis


মাইকোপ্লাজমোসিস(Mycoplasmosis)

মাইকোপ্লাজমা গ্যালিসেপ্টিকাম (Mycoplasma galliseoticum) ও মাইকোপ্লাজমা সইনোভি (Mycoplasma synovi) নামক ব্যাকটেরিয়া। 

লক্ষণঃ


মাইকোপ্লাজমা গ্যালিসেপ্টিকাম ইনফেকশানের ক্ষেত্রে লক্ষণ-


  •  শ্বাসকষ্ট, কাশি ও নাক দিয়ে তরল পদার্থ নির্গত এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট।


  •  এ রোগ ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস রোগের জটিলতা সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘস্থায়ী ভাবে ভোগান্তি সৃষ্টি করে।


  •  বয়স্ক মুরগী ও টার্কি রোগে ভোগতে ভোগতে অনেক সময় বিনা চিকিৎসায় ভাল হয়।


  •  মুরগীর বাচ্চার খুব হাঁচি হয়।


  •  ক্ষুধামন্দ, দিন দিন শুকিয়ে যাওয়া।


  •  ডিম পাড়া কমিয়ে দেয়।

মাইকোপ্লাজমা সইনোভি ইনফেকশানের ক্ষেত্রে লক্ষণ-



  •  ব্রয়লার মুরগীর ৩-৭ সাপ্তাহ বয়সে হয়।


  •  এ রোগে শ্বাস হা করে নেয়।



  •  দেহের ভিবিন্ন গিট ফুলে যায়।



  •  সবুজ পাতলা পায়খানা হয়।



  •  আক্রান্ত অস্থি সন্ধি স্ফীত থাকে এবং হক অস্থি সন্ধি ও ফুট প্যাড প্রধানত আক্রান্ত হয়।


রোগ নির্ণয়ঃ


বৈশিষ্টপূর্ণ লক্ষণ দেখে ও Post mortem এ pathononiic lesions দেখে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

চিকিৎসাঃ


১ গ্রাম টিয়ামুটিন ৪৫% ও ১০ গ্রাম সিটিসি সলিউবল যৌথভাবে প্রতি ৩-৪ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যায়।

অথবা,

টাইলোসেফ ২০০ পাউডার ২.৫ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে পর পর ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।

প্রতিরোধঃ


1. ব্রীডার ও লেয়ার মুরগীতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার যেসব ঝাঁকে এ রোগের জীবাণু পাওয়া যাবে ঐসব ঝাঁকে থেকে মুরগীর ডিম ফুটানো উচিত নয় এবং আক্রান্ত মুরগী সরিয়ে ফেলে চিকিৎসা করতে হবে।

2. সর্বদা মুরগীর খামারকে স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থায় রাখাতে হবে।

3. সময়মত টিকা প্রদান করা উচিত।

ওমফেলাইটিস।।Omphalities



ওমফেলাইটিস (Omphalities)





Escherichia coli নাকম ব্যাকটেরিয়া।

লক্ষণঃ


· বাচ্চা মাথা নিচু করে ঝিমাতে থাকে।

· খাদ্য ও পানি খাওয়া বন্ধ করে দেয়।

· কোন কোন সময় সাদা সাদা আঠালো পাতলা পায়খানা করে।

· পেট ফুলে যেতে পারে এবং পেটে পানি জমে থাকে।

রোগ নির্ণয়ঃ

বৈশিষ্টপূর্ণ উপসর্গ ও রোগের ইতিহাস দেখে রোগ নির্ণয় করা যায়।

চিকিৎসাঃ


ইনোরসল প্রতি লিটার খাবার পানিতে ০.৫ মিলি মিশিয়ে ৩-৫ দিন খাওয়াতে হবে।

অথবা,

মাইক্রোনিড প্রতি লিটার খাবার পানিতে ০.৫ থেকে ১.০ গ্রাম মিশিয়ে ৫ দিন খাওয়াতে হবে।

স্টেফাইলোকক্কোসিস।।Staphylococcosis


স্টেফাইলোকক্কোসিস (Staphylococcosis)




স্টেফাইলোকক্কোসিস (Staphylococcosis) নাকম ব্যাকটেরিয়া।

লক্ষণঃ


· আক্রান্ত মুরগীর তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

· পায়ের গিঁট ফুলে যায় এবং পরবর্তিকারে পা খাড়া অয়ে যায়।

· শরীরের ত্বকের মধ্যে ফোঁড়া হয় এবং ত্বকের ক্ষত দেখা যায়, অনেক সময় রক্ত ও পুঁজ। 



রোগ নির্ণয়ঃ


লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় করা যায়।

চিকিৎসাঃ


সিপ্রোভেট প্রতি লিটার খাবার পানিতে ০.৫ গ্রাম মিশিয়ে ৩-৫ দিন খাওয়াতে হবে।

অথবা,

এনরোসিন প্রতি লিটার খাবার পানিতে ০.৫ মিলি মিশিয়ে ৩-৫ দিন খাওয়াতে হবে।

প্রতিরোধঃ


1. স্বাস্থ্যসম্মত হ্যাচারি এবং বাসস্থানের জন্য নিয়মিতভাবে জীবাণুনাশক ব্যাবহার করতে হবে।

2. ডিম এম্পন ভাবে সংগ্রহ করতে হবে যাতে ময়লা না লাগে।

3. মানুষ বা বাইরের পশু-পাখি যেন মুরগীর খামারে ঢুকতে না পারে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।