Thursday, April 16, 2020

Duck Viral Hefatitis।।ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস



Duck Viral Hefatitis ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস


ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস হাঁসের একটি মারাত্বক ভাইরাস ঘটিত রোগ। এই ভাইরাসের জীবন শক্তি অত্যান্ত শক্ত এবং আক্রান্ত খামার হতে এই রোগ জীবানু ধংস করা অত্যান্ত কঠিন। সাধারন জীবানু নাশক ওষুধ দ্বারা এই জীবানু ধংস করা যাইনা। সাধারণত ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস হাঁসের বাচ্চা আক্রান্ত হয়।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগের কারণঃ


Ø ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস ভাইরাস এ রোগের কারণ।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগ বিস্তারঃ

  •  আক্রান্ত হাঁসের বাচ্চা সংস্পর্শে।

  • আক্রান্ত হাঁসের পায়খানা, পালক ইত্যাদির মধ্যমে।

  • খাদ্য, পানি ও বাহকের মাধ্যমে।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগের লক্ষন সমুহঃ


  •  সাধারনত ১দিন থেকে ৫ সাপ্তাহ বয়সের হাঁসের বাচ্চা ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়।
  •  আক্রান্ত বাচ্চা দুর্বল হয় এবং চলাফেরা করতে পারেনা।
  • বাচ্চার বয়স যত কম রোগের তীব্রতা এবং বাচ্চার মৃত্যুর হার তত বেশি।
  • আক্রান্ত বাচ্চার মৃত্যুর হার ১০০% পর্যন্ত হতে পারে।
  • অধিকাংশ সময় অসুস্থ বাচ্চা চোখ বন্ধ করে ঝিমাতে থাকে।
  • দেহে খিচুনি হয় এবং অনেক সময় এক দিকে কাত হয়ে পড়ে থাকে।
  • মাথা পিছনের দিকে বেঁকে কে।
  • মৃত বাচ্চার কিডনি ও লিভার ফুলে যায়।
  •  পায়খানার সাথে রক্ত থাকতে পারে।
  •  ৪/৫ সাপ্তাহ পর আক্রান্ত বাচ্চা অনেক সময় ভাল হয়।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগ নির্ণয়ঃ

হঠাৎ হাসের বাচ্চার পালে আক্রমন, অল্প সময়ে অনেক মৃত্যুর হার এবং অন্যান্য লক্ষন এই রোগ চিনতে সাহায্য করে। মৃত বাচ্চার ময়না তদন্ত করে এই রোগ নিশ্চিতভাবে সনাক্ত করা যায়। ময়না তদন্তে এ রোগে মৃত হাঁসের কিডনি ও লিভার স্বাভাবিক আকারের চেয়ে দ্বিগুন বড় দেখা যায়।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগের চিকিৎসাঃ


রোগের করণ ভাইরাস বিধায় সুষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। অন্য রোগের জটিলতা হতে রক্ষা করতে যে কোন একটি এন্টিবায়োটিক বা সালফাডায়াজল প্রয়োগ করতে হবে।

ডাক ভাইরাল হিপাটাইটিস রোগেরপ্রতিরোধঃ 

বাচ্চা হাঁসের পিতা মাতার এই রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে বাচ্চারা এ রোগে আক্রান্ত হয়না। এ জন্যে ব্রিডিং খামারের সকল হাঁসকে এই রোগের টিকা দেওয়া উচিৎ। হাঁসের রক্তের সিরাম আক্রান্ত বাচ্চার দেহে ইঞ্জেকশান দিলে প্রতিকার পাওয়া যায়। এই রোগ প্রতিকারে ব্রিডার হাঁসকে টিকা প্রদান করতে হয়।

ডাক প্লেগ রোগ।।Duck Plaque Disease




ডাক প্লেগ রোগ (Duck Plaque Disease)

ডাক প্লেগ (Duck plaque) নামক ভাইরাস।

ডাক প্লেগ রোগের লক্ষণঃ


· হঠাৎ করে আক্রান্ত হয়ে অধিক হারে মৃত্যু শুরু করে।

· অত্যাধিক পানি পিপাসা থাকে।

· খাদ্য গ্রহণে অনীহা, মাতাহ নিচু করে শুয়ে থাকে।

· চখ দিয়ে পানি পরে।

· হঠাৎ ডিম পাড়া বন্ধ হয়ে যায়।

· কখনো কখনো পায়ে অবশতা দেখা যায়।

· শ্বাস কষ্ট, নাক মুখ দিয়ে তরল পদার্ত নির্গত হয়।

· আক্রান্ত হওয়ার পর এক সাপ্তাহের মধ্যেই মৃত্যু হয়।

· মৃত্যুর হার শতকরা ৯০-১০০ ভাগ পর্যন্ত হয়।

· মৃত হাঁসের খদ্যতন্ত্রের গত্র, হৃৎপিন্ড, যকৃক, ডিম্ব থলি এবং দেহাভ্যন্তরে অন্যান্য অঙ্গে জমাট রক্ত কণা দেখা যায়।

ডাক প্লেগ রোগ নির্ণয়ঃ


· রোগের লক্ষণ দেখে রোগের প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

· মৃত হাঁসের দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঙ্ঘ পরিক্ষা করতে হয়।

· আক্রান্ত বা মৃত হাঁস গবেষণাগারে পরীক্ষা করে গবেষকগণ অতি সহজেই এ রোগ নির্নয় করতে পারে। 


ডাক প্লেগ রোগের চিকিৎসাঃ


1. এ রোগে আক্রান্ত হাঁসের কোন চিকিৎসা নেই তবে,

2. সিপরোফ্লোসিন জাতীয় যেমন- এন্ডোসিন/ এনরক্স-১০, এনরো-১০/ সিনোফ্লক্স, সিপ্রোসল ইত্যাদি যে কোন একটি ১ মিলি ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়ালে উপকার হয়।

ডাক প্লেগ রোগের প্রতিরধঃ 


a. পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যপ্রদ ব্যবস্থাপনা এ রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সাহায্য করে।

b. নিয়মিত ভাবে ডাক প্লেগ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিসমুরগির রোগের।।Intechious laryngo-tracheitis


ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিস (Intechious laryngo-tracheitis)


ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিস মুরগির রোগের লক্ষণঃ 


· শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট দেখা যায়।

· নাক ও চোখ থেকে তরল পদার্থ বের হয়।

· পরে কাশি হাঁপানি ভাব এবং ঘড় ঘড় শব্দ করে।

· কাঁশির সঙ্গে নাক মুখ দিয়ে রক্ত মিশ্রিত মিউকাস বের হয়।

· মূলত মুরগির শ্বাসক্রিয়ায় ঘড় ঘড়, সাঁ সাঁ ও কাঁশি এ রোগের বৈশিষ্ট্য।

· শ্বাস গ্রহণ কালে হাঁপানো ভাব এবং অড় হা করে মাথা উপর দিকে উঠাতে দেখা যায় এবং শ্বাস ত্যাগ কালে মুখ বন্ধ করে নীচের দিকে নামিয়ে দেয়।

· শ্বাস নালীতে সৃষ্ট ইডিমা ফেটে যাওয়ায় মিউকাস বের করতে মুরগি বার বার মাথা ঝঁকায়।

· আক্রান্ত হওয়ার ৪-৫ দিনের মধ্যে অনেক মুরগি মারা যায় এবং মৃত্যুর হার অনেক বেশি হয়।

ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিস রোগ নির্ণয়ঃ 


আক্রান্ত মুরগির বয়স, রোগের তীব্রতা, লক্ষণ, কাশিতে রক্ত, শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ঘড় ঘড় শব্দ ইত্যাদি থেকে রোগ নির্ণয় সহজ হয়। এ ছাড়া ময়না তদন্তে শ্বাস তন্ত্রে ও শ্বাস যন্ত্রে প্রদাহ দেখা যায়। রোগের শেষ পর্যায় শ্বাস তন্ত্রে রক্তপাত ও নাক ও মুখের ভিতরে রক্ত মিশ্রিত মিউকাস দেখা যায়। 




ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিস রোগের চিকিৎসাঃ 


রোগের করণ ভাইরাস বিধায় সুষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। অন্য রোগের জটিলতা হতে রক্ষা করতে যে কোন একটি এন্টিবায়োটিক বা সালফাডায়াজল প্রয়োগ করতে হবে।

ইনফেকশাস ল্যারিংগো-ট্রাকাইটিস রোগের প্রতিরধঃ 


প্রতিষেধক টিকা প্রদানেই এ রোগ প্রতিরোধের এক মাত্র উপায়।

এভিয়ান লিউকোসিস মুরগির রোগ।।Avian lucosis

এভিয়ান লিউকোসিস রোগ


এভিয়ান লিউকোসিস নামক ভাইরাস।

এভিয়ান লিউকোসিস রোগের লক্ষণঃ


· আক্রান্ত মুরগির মাথার ঝুঁটি ফ্যাকাশে বা নীলাভ হয়।

· ঝুঁটি কুঁচকে যায়।

· খাদ্য গ্রহণে মুরগির অনীহা সৃষ্ট হয়।

· মুরগি নিস্তেজ হয়ে পড়ে ও দূর্বল হয়ে থাকে।

· মল পাতলা এবং মলের রং সবুজ হতে পারে।

· দেহের পালক ভাঙ্গা ভাঙ্গা ও ওষ্ক শুষ্ক দেখা যায়।

· আঙ্গুল দিয়ে টিপে দিয়ে আক্রান্ত অঙ্গের বৃদ্ধি অনুভব করা যায়।

· সাধারণত ১৪-১৬ সাপ্তাহ বয়সে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

এভিয়ান লিউকোসিস রোগ নির্ণয়ঃ


বর্ণিত লক্ষণ গুলো মুরগির অন্যান্য অনেক রোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখা যায়। তাই শুধুমাত্র লক্ষণ দেখে এই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। সঠিকভাবে রোগ নির্ণইয়ের জন্য গবেষনাগারের সাহায্য প্রয়োজন।

এভিয়ান লিউকোসিস রোগের প্রতিরোধঃ

এই রোগের চিকিৎসা এখনো আবিস্কার হয়নি এবং এই রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন। যেহেতু আক্রান্ত মুরগির ডিমের মধ্যমে এই রোগ সংক্রামিত হয় সেহেতু রোগ মুক্ত হ্যাচারি থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে ষ্টেটারন হরমোন প্রয়োগ করে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। এ রোগের প্রতিকারের জন্যে স্বাস্থ্যপ্রদ ব্যাবস্তাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইনফেকোসাস ব্রংকাইটি মুরগির রোগ।। Infectious Bronchitis Chicken disease



ইনফেকোসাস ব্রংকাইটিস (Infectious Bronchitis)


এভিয়ান ইনফেকোসাস ব্রংকাইটিস (Infectious Bronchitis)নামক ভাইরাস।

ইনফেকোসাস ব্রংকাইটিস রোগের লক্ষণঃ


· শ্বাস নালীর সাঁ সাঁ শব্দ ও শ্বাস কষ্ট এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

· নাক মুখ দিয়ে শ্লেমা বার হয়।

· হাঁপানি, কাঁশি, অস্বাভাবিক শ্বাস শব্দ।

· ডিম পড়া মুরগির ডিম পাড়া কমে যায়।

ইনফেকোসাস ব্রংকাইটিস রোগের চিকিৎসাঃ


রোগের করণ ভাইরাস বিধায় সুষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। অন্য রোগের জটিলতা হতে রক্ষা করতে যে কোন একটি এন্টিবায়োটিক বা সালফাডায়াজল প্রয়োগ করতে হবে।

ইনফেকোসাস ব্রংকাইটিস রোগের প্রতিরোধঃ 


1. স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে লালন-পালন করতে হবে।

2. নাচিলিস Mas + ক্লোন ৩০ (লাইভ) ভ্যাক্সিন ১ দিনের বাচ্চাকে চোখে ফোটা অথবা খাবার পানিতে মিশিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

Wednesday, April 15, 2020

এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬।।Egg Drop Syndrome’76



এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬ (Egg Drop Syndrome’76)






এভিয়ান এডিনোভাইরাস নামক ভাইরাস।

এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬ রোগের লক্ষণঃ


· ডিমের রঙ বিবর্ণ হয়।

· ডিম পাড়া মুরগির ডিম উৎপাদন একেবারে কমে যায়।

· রোগে আক্রান্ত মুরগি খোসাবিহীন এবং

· খোসাযুক্ত ডিম পাড়ে। 


এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬ রোগ নির্ণয়ঃ


বৈশিষ্টপূর্ণ উপসর্গ দেখে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। এছাড়া ডিম পাড়া মুরগির হঠাৎ ডিম উৎপাদন কমে যাবে। এ তথ্য দেখে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬ রোগের চিকিৎসাঃ


এ রোগ ভাইরাসজনিত তাই এ রোগের কোন চিকিৎসা বা ঔষধ নেই।

এগ ড্রপ সিনড্রম’৭৬ রোগের প্রতিরোধঃ


সময় মত টিকা প্রয়োগ করে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

ম্যারেক্স রোগ।।Marek’s Disease


ম্যারেক্স রোগ (Marek’s Disease)





হারপিস নামক ভাইরাস।

ম্যারেক্স রোগের লক্ষণঃ


· এ রোগের ভাইরাস যে সব অঙ্গের স্নায়ুতে আক্রমন করে ঐসব অঙ্গ প্যারালাইসিস হয়ে যায়।

· ডানার স্নায়ু আক্রন্ত হলে ডানা ঝুলে যায়।

· পায়ের স্নায়ু আক্রান্ত হলে পা অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে হাঁটতে পারে না।

· ঘাড়ের মাংস পেশী আক্রান্ত হলে মাথা নিচু হয়ে ঝুলে পড়ে।

· সাধারনত ৬-১০ সপ্তাহের মোরগ-মুরগি এ রোগ বিশেষ ভাবে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

· এ রোগে আক্রান্ত মুরগি ৫-৫০% মারা যেতে পারে।

ম্যারেক্স রোগ নির্ণয়ঃ


1. বৈশিষ্টপূর্ণ উপসর্গ এবং রোগের ইতিহাস জেনে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

2. বিদেশি জাতের মুরগি ও মুরগির বয়স ৬-১০ সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য থেকে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

ম্যারেক্স রোগের চিকিৎসাঃ


এই রোগ ভাইরাস জনিত তাই এ রোগের কোন চিকিৎসা বা ঔষধ নেই।

ম্যারেক্স রোগের প্রতিরোধঃ


টিকা প্রয়োগ করে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। বর্তমানে স্বল্প সংখ্যক হ্যাচারী থেকে সদ্য ফুটন্ত মুরগির বাচ্চাকে ম্যারেক্স রোগের টিকা দেয়া হয়ে থাকে।